Posts

Showing posts from November, 2025

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৭

Image
  ঈশ্বর কেতন শেখ সপ্তম পর্ব 'ভাইজান, আরাম করে বসেন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘামছেন কেন? আমাদের দেশ তো গুজরাট না। এই দেশের মানুষ রবিচন্দ্রণ মৈত্রের পাশে খুব সহজেই বসতে পারে।' জাহিদ আসলেই ঘামছে। পকেটে রুমাল নেই। ও কোট খুলে হাতে নিলো। এরপর অজান্তেই রবিচন্দ্রণ মৈত্রের পাশে বসলো। পায়ের দিকে দৃষ্টি রেখে হালকা স্বরে বলল, 'আজকে গরম পড়েছে। পৌষ মাসের কোনো লক্ষণ নেই।' 'পৌষ মাসের গরম হচ্ছে নিজের মাথার গরম। আপনার মাথায় দুশ্চিন্তা আছে। সেই দুশ্চিন্তার গরমে আপনি ঘামছেন। কোট দিয়ে মুখ মুছে নেন। এরপর আবার পানি খান। ভালো লাগবে।' 'ধন্যবাদ। এই মুহূর্তে আমি আপনার সাথে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। দয়া করে আমার সাথে কথা বলবেন না।' 'আমি আপনার হিতের কথা ভেবেই বলছিলাম।' 'আমার হিত নিয়ে আপনাকে উপদেশ দিতে হবে না।' দৃঢ় স্বরে বলা কথাতেও লোকটা বিব্রতবোধ করল না। আগের মতোই সহজ ভঙ্গিতে বলল, 'আপনি মাত্রই এই এলাকায় এসেছেন। স্থানীয় কারো সাথে কথা বললে ভালো লাগবে। কথা বলেন। আপনি কোথায় যাবেন বলেন, হয়তো আমি আপনাকে পথ বলতে পারব।' 'আমি ঈশ্বরগঞ্জ সদরে যাব। সেখানে যাওয়ার পথ আমি জানি। ...

কেতন শেখ-এর কবিতা - ফেনা

Image
ফেনা কেতন শেখ  মিথ্যেই হোক জীবন তীরে সুখ সাগরের ফেনা,  পা ভিজিয়ে চাই মেটাতে এক জনমের দেনা। ডুব সাঁতারে আজন্ম ভয় জল-গভীরের কালো,  প্রেম শুধু দেয় হাতছানি, আর কেউ কি বাসে ভালো ?  একলা ছিলেম একাই যাবো একার খোঁজেও ভয়,  না লেখা সব কাব্য যদি আর লেখা না হয়। আর যদি সুর ছন্দরা সব সুপ্ত হয়েই থাকে,  জানবে না কেউ মেঘ দেখে মন কি ভাবে কি আঁকে।  জানবে না কেউ, কি ছিলো, বা কি হতো কি হলে,  অল্প জানা এই ফেনাতেই, বাদবাকি … অতলে।  জল গভীরে ডুববো নাকি থাকবো তীরে ঠায়,  দুই ভয়ের এই দোটানাতে শ্বাস নেয়া আজ দায়।  কৃষ্ণ যে সুখ জরদ যে দুখ সবটা সেঁচে শেষ,  অভিজ্ঞতার পকেট ভারী বোধরা নিরুদ্দেশ।  মন বলে সে সব জানে তাও নেয় না কোনো ঝুঁকি,  অজ্ঞাতে তার ভয় নিরাধার দেয় না সাহস উঁকি।  মন-আবিলে এই দ্বিধা আজ করছে কথার খোঁজ,  কাব্য এখন শ্বেত গোলাপী পদ্ম ফোটায় রোজ। দু:খ কোথায় … কাব্যে শুধু সুখটুকু যায় চেনা,  মিথ্যে বালু দেয় ধুয়ে এই সুখ সাগরের ফেনা।

কেতন শেখ-এর কবিতা - বেসামাল

Image
বেসামাল কেতন শেখ একবার চাও তো আমায় ক্ষোভে রাগে আসল কেঁদে,  হোক পাপ দোষ বা গুনাহ ভুল দ্বিধা ভ্রম বা জেদে। একবারই হোক না স্খলণ অপরাধ? বেআইনী ছল? লাজ ভয় শঙ্কা খরায় ছুঁড়ে দাও এক মুঠো জল। দেখি আমি সাহস তোমার বেপরোয়া ঢিট বেসামাল,  খুলে ফেলো সব আবরণ সব স্থিতি হোক বানচাল। দেখি তুমি হও না তুমিই হও জ্বর অসুখ বা রোগ,  যোগ সব ভাগ হয়ে যাক গুন সব হোক না বিয়োগ। আমি রোজ এমনই উদোম মন খুলে আশায় থাকি,  হও যদি নিপট নিখাদ যদি তুমি না হও ফাঁকি।  আমি তাই বেজাত কবি নই মেকি ভদ্র ভালো,  পৃষ্ঠেই শান্ত … বুকে চোরাস্রোত গভীর কালো। একবার কালোই মাখো কালো জলে নাও ধুয়ে রূপ,  সাদা নিয়ে আলাপে না হয়  এঁটে দাও কৃষ্ণ কুলুপ।  দেখি আমি তোমার রূপে মাটি ছাই কফিনের রং,  অন্তে যা দেখবো, আজই দেখি সেই প্রান্তিক ঢং। আমি তুমি একটিবারই আমি তুমি হয়েই দেখি,  ফেলে দেয়া নিজস্বতায় একসাথে হৃদয় রাখি।  হলে হলো অবৈধ চল  না-ই মানি বিধান প্রথা,  তুমি আমি এমন হলে বৃথা জ্ঞানীগুণীর কথা। একবার হলামই বৃথা আর কতো খুঁজবো মানে, সত্যরা জ্বালুক আগুন মিথ্যের ফুল বাগানে।  এসো পুড়ি ...

কেতন শেখ-এর কবিতা - আজও আছে মনে

Image
  আজও আছে মনে কেতন শেখ স্পষ্ট করেই আজও আছে মনে ...  নেই তুমি এই নিবিড় আলিঙ্গনে।  কিছুই তো নেই আগের মতো, তাও,  রোজ মনে হয় সবই ফেরত চাও। আমার বুকে নিঃস্ব বিষাদ ওম...  গলছে অতীত জ্বলছে ব্যথার মোম।  ফেরত দেয়ার আর তো কিছুই নেই,  ইচ্ছেরা মূক, আর বলে না... দেই? মৌন এখন মন মুকুরের কবি...  কলম তুলি চারকোলে ভুল ছবি। আয়নাতে আর যায় না তারে চেনা,  ভুলেও গেছি কার কি ছিলো দেনা। আজ কপোলে হৃত নিয়তির ভাঁজ ...  নেই ভাবনায় কাব্য কথন সাজ।  পট বেওয়ারিশ কালসিটে ছাপ খাতায়,  রুগ্ন শিরার হাত স্নেহহীন মাথায়। মুহূর্তরা ক্ষণ হয়েছে আগেই...  সময় এখন কৃষ্ণ, কালের দাগেই।  খেয়াল এখন জলধিসম ধীর,  মন আকাশে দুঃখ-চিলের ভিড়। সংজ্ঞাগুলো বিরস বেরঙ মেটে  মন্ত্র শ্লোকের তালটা গেছে কেটে।  বৈতালিকেই খুঁজছি অসুর-সুর,  ভয় লাগে না চিনতে অচিনপুর। হিজল পাতায় কর্ণকুহর রেখে  ইচ্ছে করে ঘুমোই সবুজ মেখে।  গাছ তো জাগে বিষাদ হরিত পুষে,  একটু না হয় নেই সে গরল শুষে। দুই পলকে নেই এখন আর ভার...  দৃষ্টিতে ঠায় স্নিগ্ধ অহংকার।  অশ্রু এ...

কেতন শেখ-এর কবিতা - তুমি আমি আর ঘর

Image
  তুমি আমি আর ঘর  কেতন শেখ  তুমি আমি আর ঘর, এক হইনি... অতঃপর, এই ত্রিতয়ী নদীর মোহনাতে তাই অভিমানী বালুচর। তুমি আপন আধারে গৃহী, হৃদয়ে সংসারী সমারোহী, তবু ছলে মোহে শ্লোকে আমারেই দাও তাড়না বহুব্রীহি। আমি কি জানি কি খুঁজে লীন, ঘরে অস্থির... বেদুঈন, খোলা প্রান্তরে দিকভ্রান্ত, অথচ অতলে ভাবনাহীন। ঘরের অসংখ্য অভিযোগ, তবু মনে তার দুর্ভোগ, জানালায় জমা পুরু ধূলে পোষে অবহেলা, দূরারোগ। তুমি আমি... আরণ্যক, কখনও পায়রা কখনও বক, পথে শুই আর জলে হেঁটে ডুবি ভুলে নকশা যুক্তি ছক। তবু ঘর ডাকে, এসো ফিরে, অদেখা অজানার সূতো ছিঁড়ে, দেখো অনুযোগ কতো আমার দেয়ালে তোমাদের প্রেম ঘিরে! আমি তবুও যে মরি দ্বিধায়, তোমার বিবাগী দৃষ্টি সুধায়, বলো... চলো ফিরি, তবু নিভৃতে দাও অমৃতের লোভ ক্ষুধায়। এমনই দ্বিমুখী জ্বর, দেখে হাসে এই চরাচর, বিমূঢ় বিরাগে বিদ্রূপী তাই তুমি আমি আর ঘর।