Posts

Showing posts from October, 2025

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৬

Image
ঈশ্বর কেতন শেখ (ষষ্ঠ পর্ব) জাহিদ অনেক সাবধানে বিস্ময় গোপন করল। লোকটার বাচনভঙ্গির পুরোটা জুড়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার দৃষ্টি শান্ত, অবিচল অথচ কোমল। রবিচন্দ্রণ মৈত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ ভারিক্কি গোত্রের পদবীসহ নাম। রাস্তার টাউট-বাটপার বা ছদ্মবেশে থাকা ডিবি অফিসার ভড়ং ধরার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের এত ভারিক্কি কোনো নাম নেবে না। এই লোক কথা বলছে অকপটে, খুবই সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে। এর অর্থ হচ্ছে যে এই লোক সাধারণ মানুষের যেকোনো অনুমানের সাথে পরিচিত। বহুদিন ধরে এসব অনুমান শুনে সে অভ্যস্ত। এই লোকের যেই ধান্দাই থাকুক, সেই ধান্দায় সে ঘাগু। এখন আরো বেশি সাবধানতার সাথে কথাবার্তা বলতে হবে। বিন্দুমাত্র অসাবধানতায় এই লোক সব কথা বের করে নিতে পারবে। মুঠোফোনে বার্তা এসেছে। হারুন কাকা তার বেনামি নম্বর থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে লেখা, 'বিকাল পাঁচটায় জাহাঙ্গীর আলমের মহাসমাবেশ, দত্তপাড়া বাজারে। তার আগেই পার্সেল ডেলিভারি করতে হবে। কান্নি লাগায়ে যেও না। হাতে সময় নিয়ে যেও।' জাহিদ দ্রুত লিখল, 'জি কাকা, সেরকমই করব।' ঘড়িতে তিনটা পাঁচ বাজছে। সেতু পার হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সদর পর্যন্ত বাস গেলে সেখান থেকে দত্তপা...

কেতন শেখ-এর কবিতা - নতি-নামা

Image
নতি-নামা কেতন শেখ ধরায় যে সুখ তোমাতে আমার নেই মঙ্গলে বা বুধে,  হোক প্রেমঋণে ভরাট বোঝা অভিমানী চড়া সুদে। এক জনমেই এক বসুধায়  এই মন শুধু তোমারেই চায় … নেই অভিযোগ স্বর্গ বিয়োগে  অভিশাপ থাক আমৃত‍্যু রোগে, তবুও ত্রিবিদ থাকুক তোমাতে  অবণী ক্ষপায় লৌকিক প্রাতে … পাপীষ্ঠ কায়া বিধর্মী হায়া থাকুক না আঁখি মুদে,  দৃশ‍্যমে হোক অন্তর বড় অদৃশ‍্য হোক ক্ষুদে। শুক্তিমাল্যে উপল কবজে জলদস্যুর মতো নেচে,  অম্বুধি স্রোতে ভেসেছি, তবু তো মুক্তো নেইনি সেঁচে। মুক্তো কে খোঁজে?... ঝিনুকেই যদি  বৃত সৌষ্ঠব ডাকে নিরবধি ...  কালোপট্টির আড়ালে লুকোনো অদেখা কামুক লোভটা পুরোনো, একচোখ রোদে ঝলসানো ঠায় চোরা ধনে মনে ...হাতছানি, হায় ... বিনাশের হাসি তবু ভালোবাসি কপট দৃষ্টি যেচে, বসতি মলয় ভুলেই তো তাই সমুদ্রে আছি বেঁচে। জলপরী কই ? কোথায় রম্ভা ? কে আর হবে সীতা ? জন্মান্তরে তুমিই আমার রাধা মীরা পরিণীতা। বিরজা বিমলা যমী নর্মদা স্ত্রী-নাম করেছে নত সর্বদা ... কি গ্রীষ্ম কি শরত বা শীত স্ত্রী যা-ই করে হিতে বিপরীত, উষ্ণে আতপ শৈত্যে শীতল যে নারী দিয়েছে সে-ই তো বিরল ... তুমি দাও ... আর ভুলে যাও কে...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৫

Image
  ঈশ্বর কেতন শেখ (পঞ্চম পর্ব) গত তিন-চার মাস ধরে ময়মনসিংহে অপরাধের ঘটনা খুব বেড়েছে। সংবাদপত্রে প্রায় রোজই আঞ্চলিক খবর গৌরীপুর, আঠারোবাড়ি, উচাখিলা বা ঈশ্বরগঞ্জের খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অপহরণ বা গুমের ঘটনার রোমহর্ষক প্রতিবেদন আসছে। এসব কারণে ধরপাকড়ও চলছে। সকালে হারুন কাকার সাথে ফোনে কথা বলার সময় এসব ঝুঁকির কিছুটা টের পাওয়া গেছে। বাসে উঠার আগে তিনি ফোনে বললেন, 'কেউ আগ বাড়ায়ে কথা বলতে গেলে বিমা বিক্রেতার মতো আলাপে বসে যেও না। ঐ এলাকায় এখন কড়া প্রহরা। কে কোন ধান্দায় কী আলাপ করবে কোনো ঠিক নাই।' 'জি কাকা।' 'ডিবির লোকজন ছদ্মবেশে দোকানপাটে বা মার্কেটে ঘুরছে। অনেকে সিএনজি চালকের বেশেও আছে। তারা স্থানীয় সাধারণের বেশে আগন্তুকদের সাথে আলাপ পরিচয় শুরু করে। মফস্বলের লোকজন আলাপ পরিচয় করায় ওস্তাদ। আমার দুই এজেন্ট এই কুশলাদীর খপ্পরে পড়ে ডিবির হাতে ধরা পড়েছে। তারা ধরা না পড়লে তুমি এই কাজ পেতে না। বুঝেছো?' 'জি কাকা, বুঝেছি। আমি সাবধানে থাকবো।' ছালা পরা লোকটাকে এখন সত্যিই ছদ্মবেশে থাকা ডিবির লোক মনে হচ্ছে। সে হাসিমুখেই বলল, 'আমি রোজ গোসল করি। আমার পরনে ছালা, কিন্তু আমার...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৪

Image
    ঈশ্বর কেতন শেখ  (চতুর্থ পর্ব) এই ধরনের তথ্য যাকে তাকে দেয়ার কোনো ইচ্ছেই জাহিদের নেই। পানি শেষ করে ও চায়ে চুমুক দিলা। ছালা পরা লোকটা দমে যায়নি। অন্যদিকে তাকিয়ে থেকে আগের মতোই উদাসীন স্বরে সে বলল, 'এই প্রশ্নের উত্তর মানুষকেই দিতে হবে। ঈশ্বর এই প্রশ্নের উত্তর দেননি। ঈশ্বর শুধু পানি আর পৃথিবী দিয়েছেন।' জাহিদ চুপচাপ চায়ে মনযোগ দিলো। চা ভালো হয়েছে। কণ্ঠনালী দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে যাচ্ছে না, আরামেই যাচ্ছে। বাড়তি চিনির কারণে হলেও দুই চুমুক দেয়ার পরে শরীর চনমনে লাগছে। পৌষ মাসে শরীরে চায়ের আবেদন ভিন্ন হয়ে যায়। সেই ভিন্নতা টের পাওয়া যাচ্ছে। জাহিদ হালকা স্বরে বলল, 'চা ভালো বানিয়েছেন ভাই।' 'সামদানী ভালো চা বানায়। সেই কারণে আমিও চা খেতে শিমুলতলী মোড়ে তার দোকানে আসি।' ছালা পরা লোকটা এবার জাহিদের দিকে তাকিয়েই কথা বলেছে। তার সাথে একটা দৃষ্টি বিনিময়ও হয়েছে। এরপর কথা না বলাটা সরাসরি অভদ্রতা হবে। বিমা বিক্রেতার পক্ষে সেই অভদ্রতা করা সম্ভব না। অচেনা অজানা লোকজনের সাথে কথা বলা জাহিদের পেশাগত অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। পেশাগত অভ্যেস রন্ধ্রে ঢুকে ঘর সংসার করা শুরু করে। ঘর সংসার করা আচরণ উপ...

কেতন শেখ-এর কবিতা - বরিষণ

Image
  বরিষণ   কেতন শেখ এই রৌদ্র আমায় রেখেছে তোমার চুমুর পিয়াসে নত,  ফাল্গুনী ঠাম গ্রীষ্মের ঘাম আষাঢ়ে গল্প যতো।  তুমি আসবে যখন তান্ডব হবে মেঘ ও মনের নৃত্য,  প্রথমা বৃষ্টি ধুয়ে দেবে সব কল্মষ ইতিবৃত্ত। এই আকাশে মন্চ আকাশেই মেঘ আমিও উড়বো আকাশে,  রৌদ্রকে শুষে হৃদয় পোড়াবো শ্বাস নেবো ভেজা বাতাসে।  তুমি মেলবে দৃষ্টি খুঁজবে বৃষ্টি খুলবে বাহুর আঙিনা,  আমি বেআব্রু চোখে বলবো, কোনো সীমার বাঁধন মানি না।  এই আষাঢ় শ্রাবণ কদম দোপাটি গুলনার্গিস কামিনী, মালঞ্চে সব নির্ঘুম, কবে আসবে রূপসী মালিনী। তারা জানে না তোমার খোলা চুল দেখে মেঘেরা গুমোট ঈর্ষায়,  তুমি ফুল-জল সবই কুড়োবে, যখন ভিজবো দুজন বর্ষায়।  এই নবধারা জল রোদ মেঘ ছল ধুয়ে দেবে দেখো নিশ্চিত,  বজ্রনিনাদে ধরা থরথর ঘরে যাবে সাধু-পুরোহিত।  নদী হিংসেয় পুড়ে দেখবে তোমার বাহু খুলে মেলা ভরা বুক,  বৃষ্টি কি তারে ভরাবে … এই তৃষ্ণায় সে-ও উন্মুখ। এই বর্ষাকে যারা নারী বলে তারা বোঝেনি প্রণয় রঙ্গ, মেঘ তো ভেজায় রমণীর মন, বৃষ্টি ভেজায় অঙ্গ।  নবধারা জলে ঘরে বসে চা শুকনো কালির কাব্যে,  হওয়া য...

কেতন শেখ-এর কবিতা - গুরুপূর্ণিমা

Image
  গুরুপূর্ণিমা কেতন শেখ ****************************************** কোনো একদিন  গুরুপূর্ণিমার রূপোলী চাঁদ হবো তোমার শ্রাবণ আকাশে ... কোনো সত্যবতীর কোল আলো করে আরেকবার জন্ম নেবে কৃষ্ণ দ্বৈপায়ণ ... নতুন করে লিখবে সে ভালোবাসার লক্ষ শ্লোক, কিন্তু এবার আর গৃহবিবাদ বা কুরুক্ষেত্র নয়, সেই বেদব্যাস লিখবে প্রেম-জোছনায় উপচে পড়া আবেগের যুদ্ধে আমার মতো সাধারণ কোনো প্রেমিকের স্বেচ্ছায় হেরে যাওয়ার অসাধারণ মহাকাব্য। ****************************************** ©কেতন শেখ গুরুপূর্ণিমা

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৩

Image
  ঈশ্বর  কেতন শেখ (তৃতীয় পর্ব) পৌষ মাসের অপরাহ্ন। রোদের আতপে শীতের কোনো আভাস নেই। শিমুলতলী মোড়ের সামনে পুলিশের তারকাঁটা অবরোধ পর্যন্ত ঘিঞ্জি হয়ে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক জনপদ। গাড়ি মেরামতের গ্যারাজ, ব্যাটারি আর গাড়ির পার্টসের কিছু দোকান, দুই-একটা টং দোকানে চা, সিগারেট বা মনোহারী খাবার। কাছাকাছি একটা ভাতের হোটেলে রমরমা ব্যবসা হচ্ছে। জাহিদের খিদে পায়নি। কিন্তু চায়ের তেষ্টা পাচ্ছে। গত দুইমাস প্রায় সব দুপুরেই চা আর বনরুটি বা কলা খাওয়া হয়েছে। সেই অভ্যেসে পেট এখন রপ্ত। হারুন কাকার দেয়া খরচাপাতির টাকা পকেটে থাকলেও পেট সেটা মানছে না। পেট চা খুঁজছে। এই মফস্বলে সকালে হয়তো পৌষের অনুষ্ণতার ছোঁয়া ছিলো। দুপুরের গরমেও তাই দোকানের কিছু কর্মচারীর পরনে উলের সোয়েটার। দুপুরের গরমেও তারা সোয়েটার খুলে রাখেনি। জাহিদের পরনে সুটকোট। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। গরমে জাহিদের সর্বনাশা অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মনে হচ্ছে কোট খুলে হাতে নিলে কিছুটা স্বস্তি লাগবে। সাথে আনা বোতল থেকে জাহিদ এক ঢোক পানি খেলো। এরপর সবচেয়ে কাছের টং দোকানে এসে হালকা স্বরে বলল, 'ভাই, চা হবে?' 'রং চা, লেবু চা, আদা চা...

অতিপ্রাকৃত গল্পগুচ্ছ - কেতন শেখ

Image
"জুয়েল সাথেসাথে চোখ বন্ধ করলো। এরপরের ঘটনা ওর দেখার কোনো উপায় নেই। ও শুধু টের পেলো যে প্রচন্ড গতিতে চলতে থাকা পিকআপটা হঠাত ডানদিকে হেলে গেলো। জুয়েলের মনে হলো ও শূন্যে ছিটকে কোথাও পড়লো। কোথায় পড়লো সেটা বুঝার আগেই ও জ্ঞান হারালো। ধুকুন্দির আকাশে ভোরের আগের হালকা আলো উঁকি দিচ্ছে। সূর্যোদয় হয়নি। রাতের অন্ধকার পরিষ্কার হচ্ছে। কয়েক মুহূর্তের জন্য জুয়েল চোখ খুললো। ও বেঁচে আছে কি না ও বুঝতে পারছে না।  সেই কয়েক মুহূর্তে ও একটা অদ্ভূত দৃশ্য দেখলো। ওর চোখের সামনে বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত। কার্তিক মাসের সোনাধরা ধানের রঙ ভোরের আলোতে চকচক করছে। সেই ধানক্ষেতে কাশেম সিকদার পাগলের মতো ছুটছেন। তিনি রাস্তার দিকে না, সীমান্তের দিকে ছুটছেন। তাঁর পেছন পেছন ছুটছে বজলুর রশিদ। তার হাতে কোনো অস্ত্র নেই। কিন্তু কাশেম সিকদারকে দেখে মনে হচ্ছে তিনি প্রাণভয়ে ছুটছেন"। গল্প - বিহান লেখক - কেতন শেখ গ্রন্থ - অতিপ্রাকৃত গল্পগুচ্ছ