Posts

Showing posts with the label Mind and Pen

কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা - আমি তুমি সে

Image
  কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা   আমি তুমি সে আমার পাশেই তুমি ,  সামনে তোমার মুকুর, মুকুর জুড়ে স্মৃতির বর্ষা   পড়ছে টাপুর টুপুর।   তোমার প্রতিরূপে ,  খুব প্রিয় সেই দৃশ্য, প্রেম ধরেছি, মুগ্ধতাটা   রইলো যে অস্পৃশ্য।   চারকোণা দর্পণে,   আমার যুবক দৃষ্টি, আটকে বয়স মনকে ভেজায়   একুশ ফাগুন বৃষ্টি।   পাশের তুমি দোসর,  সে প্রিয়া আয়নাতে, তোমার সাথে সংসার, আর   পরকীয়া তার সাথে।   আরশিতে সব প্রেম,  পাশেই ভালোবাসা, বুকের ভেতর দোটানা সুখ   নিত্য জাগায় আশা।   রূপ প্রতিরূপ খেলায়,   জিতছো রোজই বাজি, প্রেমিক আমি হারের শরম   নিয়েই বাঁচতে রাজি।   কিস্তিমাতের তৃপ্তি,  দিচ্ছে তোমায় ঘুম, আমার রাতের কল্পনাতে   মুকুর প্রেমের ধুম।   বাতুল মনটা আমার,  বুঝলোই বা কে, আয়নাঘরে করছি বসত   আমি তুমি সে। © কেতন শেখ

কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা - নকশী প্রতিচ্ছবি

Image
  কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা   নকশী প্রতিচ্ছবি   কেতন শেখ এই ঘরে চার দেয়াল জুড়ে নকশী প্রতিচ্ছবি, আয়নাতে এক প্রেমিক হাসে ডুকরে কাঁদে কবি। কবির খাতায় শূন্য কাগজ, নিঃস্ব যে তার মন, আস্থা ভুলের মাসুল ভারে কাটছে প্রহর ক্ষণ।   প্রেমিক লেখে মান অভিমান প্রেম বিরহের কথা, এক ছটাকের সুখ-মিশালে আধসেরী দেয় ব্যথা। ব্যথায় কাতর প্রেম-যমুনায় সুখ-ফেনাদের ঢেউ, মিঠে নোনা যা-ই লেখা হোক মঁজবে ঠিকই কেউ।   কবির মনে রোদ ঝাঁঝালো এক ফোঁটা নেই জল, ঊষর বুকে পুষছে কবি এক প্রেমিকার ছল। শব্দরা নেই ছন্দ নাকাল চেতন-কায়ায় ভার, সাজলো না এই কবির গ্রীবায় প্রেমের মণিহার।   ছল কপটে প্রেমিক স্নাত ছলেই যে তার ঘর, সেই ঘরে সুখ মৃন্ময়ী লোভ, মনে ক্বারিন  ভর। কৃষ্ণ খেয়াল কপিল আড়াল স্বপ্ন রঙীন চোখে, আয়না জুড়ে নকশা আঁকে খুব ধারালো নোখে।   নোখের আঁচড় কবির বুকেও, দগদগে সেই ক্ষত, কেউ বলে প্রেম কেউ বা বলে হয়তো প্রেমের মতো। ক্ষতের চিড়ে কাঁদে হাসে বিফল পরিতোষ, নোখ ছিলো যার সে-ই বোঝেনি ক্ষতের কি-ই বা দোষ।   প্রেমিক হৃদয় বন্ধুর, তার...

কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা - মধুমাস

Image
  কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা মধুমাস   এই মধুমাস হোক-ই না হয় মধুর তোমার প্রেমে ...   বর্ষা শরত যাক ছুটিতে হেমন্ত থাক খুনসুটিতে, হলদে ছোপে মাখুক হৃদয় যাক মুছে যাক উত্তুরে ভয়, মাঘের করে অতঃপরে রক্তগাঁদার দৃশ্যচরে, পলকা হাওয়ার হিমেল বরে তোমার আমার এই শহরে ফাগুন আসুক নেমে।   তোমার আমার এই শহরে ফাগুন যখন আসে ...   কার্নেশনের বিদায় প্রাতে পলাশ টগর মাল্য গাঁথে, কৃষ্ণচূড়ার মনটা উদাস আসবে কবে চৈতী বিলাস, জ্ঞাতিমিলন পূর্ণিমাতে হয়তো কোনো সন্নিপাতে, হাস্নুহেনার কুঁড়ির অধর জোছনা মেখে বলে, ধূসর যাচ্ছে পরবাসে।   ধূসর যদি নিলোই বিদায় লজ্জা তোমার কিসে ...   কপোল ভরে অরুণ মাখো তিন ফোঁটাতে চিবুক আঁকো, বুকে বাধো কৃশ চোলি দিলেই না হয় হায়ার বলি, দশমেসে রূপ হায়ার ফাঁদে রূপ-রিপু-কাম ভয়েই কাঁদে, আর কবে প্রেম সুধায় মরে হয়ে পুরুষ লোভকাতুরে তোমায় যাবো মিশে ?   এই মন বিনিময় ক্ষণ যদি হয় ফুলেল রঙিন ফ্রেমে ...   বসন্ত রোদ তপ্ত আঁচে ঈর্ষা আনুক হরেক ছাঁচে, তোমার যতো প্রেমিক পুরান ভদ্র-জ্ঞানী, নেতা-মাস্তান, যারা তোমায় রাখতো ঢেকে সীমা-রেখা-পণের ছকে, দেখুক ওরা আঁচল ফেলে লাজ-দ...

কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা - রূপসী নদীর গল্প

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা রূপসী নদীর গল্প তুমি যখন বললে ‘ এই নদীর নাম কি ?’ আমি কিছু বলতে পারিনি ... কবির মতো দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে ছিলাম নদীর দিকে। ভাদ্র রোদ্দুরে ঝিকমিকে জলে এই নদী এখন ভরাযৌবনা, সদ্য গত শ্রাবণ বারিষে একুশ বছরের কুমারীর মতো এখনও পূর্ণ আর টানটান তার বক্ষ। শাড়ির পাড়ের কিনার-ছোঁয়া ইন্দ্রিগত সৌষ্ঠবের মতো বালি চিকচিকে তার তীর, ঘন জলের পৃষ্ঠে বয়ে চলে প্রেমিকার হৃদয়ের মতো রাগ-অনুরাগ আর আবেগী ঢেউ। নদীদৃশ্যের দিগন্তজোড়া ধূসর স্রোতকাব্যে নব-পরিণীতার সপ্তরঙা স্বপ্নের নিত্য প্রবহণ, গর্ভের গভীর সলিল মমতায় মাতৃস্নেহের গহন মায়ার শাশ্বত বেধ। মনে মনে কবি ভাবনায় এই নদীর নাম আমি দিয়েছি রূপসী। কিন্তু আমি তোমাকে সেটা কিভাবে বলি ? তুমি তো কেবলই একজন নারী।

কেতন শেখ-এর নির্বাচিত কবিতা - অসময়

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা অসময় মেঘেরা আমায় ডাকলো যখন রৌদ্র সুধার জন্য মরিয়া আমি, রবির কিরণ তৃষ্ণা জুড়ে বৃষ্টিস্নানের ভাবনাটা পাগলামী। উর্বী যখন ডাকলো আমায় নিমকি সুবাস আমার ইচ্ছে জুড়ে, বীতরাগ এই মর্ত জীবন মন পড়ে রয় সুনীল সমুদ্দুরে। অদ্রি ডাকলো আমায় যখন গৃহী স্বপ্নে বিভোর তখন মনন, পার্থিব সব ভাবনাগুলোয় রইলো চাপা বৈরাগী সুখ চয়ন। নাগরিক ডাক আসলো যখন অন্তর ভরা ছন্দ আরণ্যক, শিকল কড়ার বাঁধন ভারে বন্য বিলাস ধৃত নিরর্থক। তুমি আমায় ডাকলে যখন সব দোটানা বিলীন নিরুদ্দেশ, নাম না জানা বর করলো খুব সহজেই অসময়ের শেষ।

কেতন শেখ-এর কবিতা - এলো বিলাস

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা এলো বিলাস   তুমি চলে যাওয়ায় জীবনের বেপরোয়া এষণগুলোর নতুন করে আনাগোনা শুরু হয়েছে। ধাঁচ-সামাজিকতার পীড়নে চাপা অভীপ্সাগুলো নতুন করে খুনশুঁটিতে ব্যস্ত এখন ... মন মতি আর ভাবনাগুলো দিনরাত নির্বিশেষে, লোকালয়ে বা একাকীত্বে, জমকালো মঁজু ললিত সুধার কল্পনা বা সান্নিধ্যে আচ্ছন্ন এখন। কখনও সেই টানেই চেয়েছিলাম তোমাকে ... অকথ্য বাসনা আর স্হূল আকর্ষণে তোমার মন শরীর নিয়ে মত্ত হতে চেয়েছিলাম প্রণয়লীলায়। আমার সেই চাওয়া ছিলো না অনঘ (সেই দাবি বা পণও আমার ছিলো না), সাধু-প্রবাজিকার পূত প্রেম-ভাবনার সাথে তার উপমিতি ছিলো না কখনও। সেই বিলাসে ছিলো না অনড়তা, ছিলো না বিধিবিধান, প্রথাসিদ্ধ তত্ত্ব, বা সূত্র। আমার চাওয়ায় ছিলো নিখাদ রক্তমাংস মনুষ্যের ভ্রান্তিপরায়ণ মনের উদাম বাসনা ... আর তোমার দেহ মন রূপের জন্য এলো আকালিক সর্বগ্রাসী বিধ্বংসী প্রেম। প্রেমের ইন্দ্রিগত বিভূষণের এই সুধা আর ক্ষুধা তোমার মন থেকে বিচ্ছিন্ন, আজও ... তুমি বোঝোনি। আমার অন্তরের এলো বিলাস এমনটাই, আজও ... তুমি বোঝোনি।

কেতন শেখ-এর কবিতা - শৈবলিনীর কাব্য

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা শৈবলিনীর কাব্য   বুক ভরা জলের গভীর তবু হাসে রৌদ্রে নদী, তীরের ঐ রজত বালি তার সাথী নিরবধি। তুমি তো নদীই আমার বুকে ধরো গহন মায়া, আমি সেই বালুকার তীর পাই শুধু জলের ছোঁয়া। প্রবাহিণী সহায় হয়ে ধূ ধূ তীর মুখর করে, ধুয়ে দেয় সভ্যতা ক্লেশ বহতা ঢেউয়ের তোড়ে। তুমিও তেমনই আমার মন প্রাণে সবুজ মাখো, জৈবতা শোধন করে চেতনায় মানুষ আঁকো। তটিনী শান্ত দোসর প্রেম সে আপ্লাবনে, গর্ভের অন্তঃস্রোতে সে প্রাণের স্বপ্ন বোনে। তুমি যে মায়াবতী মোর কুলবধূ স্রোতস্বিনী, আমি শুধু তট যে তোমার তুমি মোর শৈবলিনী।

কেতন শেখ-এর কবিতা - একা

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা একা আমি তো একাই ছিলাম আজও আমি একাই আছি, মুখরিত আসরে থাকি নিথরের কাছাকাছি। দিবালোকে সবই আছে কথা গান কান্না হাসি, সব সাড়া ছাপিয়ে শুনি মৌনতা সুরের বাঁশী। বাঁধা থাকি হাজার কবজে সংজ্ঞা বা সংজ্ঞাবিহীন, সুদ কাটে জাগতিক ক্রিয়া থেকে যায় অসাধিত ঋণ। যামিনীর রঙের মাঝে খুঁজে ফিরি আপন আড়াল, কখনও আমিই অসিত কভু আমি কালো বেড়াল। নিদ্রাকে সাথে নিয়েই মেলে রাখি মনের নয়ন, একাতেই সুখ পরিলেখ একা একা দুঃখ চয়ন। স্বত্ব - কবি

কেতন শেখ-এর কবিতা - রঙ

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা রঙ হয়তো বা ইচ্ছে ছিলো , ইচ্ছে-তুলির আঁচড়ে পলাশের রঙে আঁকবো তোমার শাড়ি। শৌখিন পটুয়ার মতো তাড়াহুড়োর নিকুচি করে খেয়ালী, আবেশী, বিশৃঙ্খল আঁচড়ে সারাদিন সেই রঙে মাখবো কনকচাঁপার হলদে ছোপ  ... ছবিটাতে  কৃষ্ণ প্রহরের শেষ জাড়কে বিদায় দেয়া  খুব বুনো অভিলাষী রতির পর তোমার লাজুক, পরিতৃপ্ত অথচ তৃষিত শরীরে বিনা ব্লাউজে শাড়িটা শুধুই এলোমেলো করে জড়ানো  ... নিবিড় সোহাগে লুপ্ত মুখশ্রী সজ্জায় কিভাবে যেন টিকেছে তোমার কপোলে আঁকা জরদ রঙা তিন ফোঁটার টিপ  ... খোলা জানালায় ফাগুনের প্রথম রোদে রাঙা তোমার অবয়বে নারীত্বের বিলাসী অবসাদ, অধরে অনিমিত্ত আনমনা হাসি, নহলী অশ্রুতে ঝাপসা দৃষ্টি খুঁজে বেড়ায় অবিমুক্ত শঙ্কা, দ্বিধা আর কুণ্ঠার অবসান, বিসারী সুফলা সুখের হাতছানি ... আর নতুন করে সব হারিয়ে কি যেন পাওয়ার বসন্ত বিভ্রম। হয়তো বা ইচ্ছে ছিলো, ইচ্ছে-তুলির অদৃশ্য আঁচড়ে সেই ছবিতে মাখবো মাঘের শেষ নীহারে সিক্ত বেলীর সুবাস, নয়নতারার গোলাপী অনুভবে পন্চ ইন্দ্রিয়-পাপড়ির স্পর্শ, সবজে সাদা নাগেশ্বরের স্নিগ্ধ, কোমল, ...

কেতন শেখ-এর কবিতা - মিছিল

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা মিছিল শুধু একবার যেতে দাও ... মিছিল ডাকছে আমায়, ভালোবেসে উদ্দীপ্ত করো অবিনাশী চেতনায়। সোনাফলা মাটি রক্তাক্ত আজ, উপাগত ক্ষণ বিষাক্ত আজ, মানবতাবোধ বিলুপ্ত আজ, জাগরণ আশা অশক্ত আজ ... বহু অভিমান অব্যক্ত আজ, কবিতার ভাষা ক্লেদাক্ত আজ, জাগতিক সুখ দাসত্ব আজ, সময়ের দাবী নরত্ব আজ, শুধু একবার বলে দাও ... যাও, মিছিলে যাও সংসারত্যাগে বিদ্রোহী হয়ে মনুষ্য-স্বাদ নাও। অথবা সঙ্গে চলো, স্লোগানেই কথা বলো, নির্বল এই জীবন-প্রদীপে বিপ্লবী শিখা জ্বালো।

কেতন শেখ-এর গল্প - উপরোধ

Image
  কেতন শেখ-এর সুনির্বাচিত গল্প উপরোধ               জামিল দাঁড়িয়ে আছে রূপসী বাংলা হোটেলের লবিতে।   ও অপেক্ষা করছে লন্ডন ফিল্ম একাডেমীর গবেষক ইলেনোরা পডরেকার জন্য।  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের উপর একটা ডকুমেন্টারি বানানোর জন্য ইলেনোরা বাংলাদেশে এসেছে। জামিলের কাজ হচ্ছে এই ডকুমেন্টারি তৈরীর কাজে ইলেনোরাকে সাহায্য করা।   আজকে সকাল থেকে জামিল ইলেনোরার সাথে শহীদ মিনার আর ঢাকা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রায় চার ঘন্টা ঘুরেছে , আর ইলেনোরাকে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সম্পর্কে অনেক তথ্য দিয়েছে। এই ভ্রমণে শুধু জামিলের কথাবার্তাই ছিলো না, ইলেনোরার নিজস্ব কাজও ছিলো।  ইলেনোরা কিছু ভিডিও ইন্টারভিউ করেছে।  সে  ভাষাতত্ত্বের ছাত্রী ছিলো ... বাংলাসহ আটটা ভাষায় সমান দখল নিয়ে কথা বলতে পারে। এতে জামিলের সবচেয়ে বেশী সুবিধা হয়েছে। চার ঘন্টা ধরে ইংরেজিতে কথাবার্তা চালানোর মতো অবস্থা   জামিলের না। জামিল পড়াশোনায় কখনোই খুব একটা মনযোগী ছিলো না। বিএসসি...