Posts

Showing posts with the label ঈশ্বর

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৮

Image
  ঈশ্বর কেতন শেখ অষ্টম পর্ব 'ভেবে দেখেন। আমার রাস্তায় পুলিশের তল্লাশি নেই। গ্রামের রাস্তা। এখন সেই পথে রওনা দিলে আপনি এক ঘণ্টার আগেই সদরে পৌঁছে যাবেন। আর সোজা রাস্তায় কোন তল্লাশিতে কে কখন পুলিশের হয়রানির শিকার হয়, কেউ বলতে পারে না। বিনা কারণে আপনার বিলম্ব হতে পারে।' জাহিদ ছোট করে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। খুব অল্প সময়ে লোকটা তার কথাবার্তায় জাহিদকে বিভ্রান্ত করে দিয়েছে। তার কথাবার্তায় একটা অতিলৌকিক সন্নিপাতের ছোঁয়া। মনে হচ্ছে যে জাহিদের মনের ভেতরের কথা পড়ে লোকটা কথা বলছে। এরকম সন্নিপাত খুব গভীরে একটা শঙ্কার ছাপ রেখে দেয়। সেই শঙ্কায় যেমন একটা ঝুঁকির শিহরণ থাকে, ঠিক তেমনই থাকে ছাইচাপা ফুলকি আগুনের মতো লোভের টান। অনেকটা বালক বয়সে ছেলেধরার প্রলোভনের মতো, বা কিশোর বয়সে জঙ্গি আহ্বানে ডাকা হৃদয়গ্রাহী সাম্প্রদায়িক লালসার মতো। এই মুহূর্তে জাহিদের মনের ভেতরে এই লোকের সাথে তার পথে রওনা হওয়ার তেমনই একটা ঝুঁকি আর লোভের মিশ্র অনুভূতি উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে যে তাকে বলা হয়েছে জাহিদ ঈশ্বরগঞ্জ সদরে যাবে, দত্তপাড়া বাজারে না। এই লোক যাবে দত্তপাড়া বাজারে। জাহিদের গন্তব্য সেখানেই। এই লোক জাহাঙ্গীর ...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৭

Image
  ঈশ্বর কেতন শেখ সপ্তম পর্ব 'ভাইজান, আরাম করে বসেন। দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘামছেন কেন? আমাদের দেশ তো গুজরাট না। এই দেশের মানুষ রবিচন্দ্রণ মৈত্রের পাশে খুব সহজেই বসতে পারে।' জাহিদ আসলেই ঘামছে। পকেটে রুমাল নেই। ও কোট খুলে হাতে নিলো। এরপর অজান্তেই রবিচন্দ্রণ মৈত্রের পাশে বসলো। পায়ের দিকে দৃষ্টি রেখে হালকা স্বরে বলল, 'আজকে গরম পড়েছে। পৌষ মাসের কোনো লক্ষণ নেই।' 'পৌষ মাসের গরম হচ্ছে নিজের মাথার গরম। আপনার মাথায় দুশ্চিন্তা আছে। সেই দুশ্চিন্তার গরমে আপনি ঘামছেন। কোট দিয়ে মুখ মুছে নেন। এরপর আবার পানি খান। ভালো লাগবে।' 'ধন্যবাদ। এই মুহূর্তে আমি আপনার সাথে কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। দয়া করে আমার সাথে কথা বলবেন না।' 'আমি আপনার হিতের কথা ভেবেই বলছিলাম।' 'আমার হিত নিয়ে আপনাকে উপদেশ দিতে হবে না।' দৃঢ় স্বরে বলা কথাতেও লোকটা বিব্রতবোধ করল না। আগের মতোই সহজ ভঙ্গিতে বলল, 'আপনি মাত্রই এই এলাকায় এসেছেন। স্থানীয় কারো সাথে কথা বললে ভালো লাগবে। কথা বলেন। আপনি কোথায় যাবেন বলেন, হয়তো আমি আপনাকে পথ বলতে পারব।' 'আমি ঈশ্বরগঞ্জ সদরে যাব। সেখানে যাওয়ার পথ আমি জানি। ...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৬

Image
ঈশ্বর কেতন শেখ (ষষ্ঠ পর্ব) জাহিদ অনেক সাবধানে বিস্ময় গোপন করল। লোকটার বাচনভঙ্গির পুরোটা জুড়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার দৃষ্টি শান্ত, অবিচল অথচ কোমল। রবিচন্দ্রণ মৈত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ ভারিক্কি গোত্রের পদবীসহ নাম। রাস্তার টাউট-বাটপার বা ছদ্মবেশে থাকা ডিবি অফিসার ভড়ং ধরার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের এত ভারিক্কি কোনো নাম নেবে না। এই লোক কথা বলছে অকপটে, খুবই সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে। এর অর্থ হচ্ছে যে এই লোক সাধারণ মানুষের যেকোনো অনুমানের সাথে পরিচিত। বহুদিন ধরে এসব অনুমান শুনে সে অভ্যস্ত। এই লোকের যেই ধান্দাই থাকুক, সেই ধান্দায় সে ঘাগু। এখন আরো বেশি সাবধানতার সাথে কথাবার্তা বলতে হবে। বিন্দুমাত্র অসাবধানতায় এই লোক সব কথা বের করে নিতে পারবে। মুঠোফোনে বার্তা এসেছে। হারুন কাকা তার বেনামি নম্বর থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে লেখা, 'বিকাল পাঁচটায় জাহাঙ্গীর আলমের মহাসমাবেশ, দত্তপাড়া বাজারে। তার আগেই পার্সেল ডেলিভারি করতে হবে। কান্নি লাগায়ে যেও না। হাতে সময় নিয়ে যেও।' জাহিদ দ্রুত লিখল, 'জি কাকা, সেরকমই করব।' ঘড়িতে তিনটা পাঁচ বাজছে। সেতু পার হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সদর পর্যন্ত বাস গেলে সেখান থেকে দত্তপা...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৫

Image
  ঈশ্বর কেতন শেখ (পঞ্চম পর্ব) গত তিন-চার মাস ধরে ময়মনসিংহে অপরাধের ঘটনা খুব বেড়েছে। সংবাদপত্রে প্রায় রোজই আঞ্চলিক খবর গৌরীপুর, আঠারোবাড়ি, উচাখিলা বা ঈশ্বরগঞ্জের খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অপহরণ বা গুমের ঘটনার রোমহর্ষক প্রতিবেদন আসছে। এসব কারণে ধরপাকড়ও চলছে। সকালে হারুন কাকার সাথে ফোনে কথা বলার সময় এসব ঝুঁকির কিছুটা টের পাওয়া গেছে। বাসে উঠার আগে তিনি ফোনে বললেন, 'কেউ আগ বাড়ায়ে কথা বলতে গেলে বিমা বিক্রেতার মতো আলাপে বসে যেও না। ঐ এলাকায় এখন কড়া প্রহরা। কে কোন ধান্দায় কী আলাপ করবে কোনো ঠিক নাই।' 'জি কাকা।' 'ডিবির লোকজন ছদ্মবেশে দোকানপাটে বা মার্কেটে ঘুরছে। অনেকে সিএনজি চালকের বেশেও আছে। তারা স্থানীয় সাধারণের বেশে আগন্তুকদের সাথে আলাপ পরিচয় শুরু করে। মফস্বলের লোকজন আলাপ পরিচয় করায় ওস্তাদ। আমার দুই এজেন্ট এই কুশলাদীর খপ্পরে পড়ে ডিবির হাতে ধরা পড়েছে। তারা ধরা না পড়লে তুমি এই কাজ পেতে না। বুঝেছো?' 'জি কাকা, বুঝেছি। আমি সাবধানে থাকবো।' ছালা পরা লোকটাকে এখন সত্যিই ছদ্মবেশে থাকা ডিবির লোক মনে হচ্ছে। সে হাসিমুখেই বলল, 'আমি রোজ গোসল করি। আমার পরনে ছালা, কিন্তু আমার...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৪

Image
    ঈশ্বর কেতন শেখ  (চতুর্থ পর্ব) এই ধরনের তথ্য যাকে তাকে দেয়ার কোনো ইচ্ছেই জাহিদের নেই। পানি শেষ করে ও চায়ে চুমুক দিলা। ছালা পরা লোকটা দমে যায়নি। অন্যদিকে তাকিয়ে থেকে আগের মতোই উদাসীন স্বরে সে বলল, 'এই প্রশ্নের উত্তর মানুষকেই দিতে হবে। ঈশ্বর এই প্রশ্নের উত্তর দেননি। ঈশ্বর শুধু পানি আর পৃথিবী দিয়েছেন।' জাহিদ চুপচাপ চায়ে মনযোগ দিলো। চা ভালো হয়েছে। কণ্ঠনালী দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে যাচ্ছে না, আরামেই যাচ্ছে। বাড়তি চিনির কারণে হলেও দুই চুমুক দেয়ার পরে শরীর চনমনে লাগছে। পৌষ মাসে শরীরে চায়ের আবেদন ভিন্ন হয়ে যায়। সেই ভিন্নতা টের পাওয়া যাচ্ছে। জাহিদ হালকা স্বরে বলল, 'চা ভালো বানিয়েছেন ভাই।' 'সামদানী ভালো চা বানায়। সেই কারণে আমিও চা খেতে শিমুলতলী মোড়ে তার দোকানে আসি।' ছালা পরা লোকটা এবার জাহিদের দিকে তাকিয়েই কথা বলেছে। তার সাথে একটা দৃষ্টি বিনিময়ও হয়েছে। এরপর কথা না বলাটা সরাসরি অভদ্রতা হবে। বিমা বিক্রেতার পক্ষে সেই অভদ্রতা করা সম্ভব না। অচেনা অজানা লোকজনের সাথে কথা বলা জাহিদের পেশাগত অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। পেশাগত অভ্যেস রন্ধ্রে ঢুকে ঘর সংসার করা শুরু করে। ঘর সংসার করা আচরণ উপ...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৩

Image
  ঈশ্বর  কেতন শেখ (তৃতীয় পর্ব) পৌষ মাসের অপরাহ্ন। রোদের আতপে শীতের কোনো আভাস নেই। শিমুলতলী মোড়ের সামনে পুলিশের তারকাঁটা অবরোধ পর্যন্ত ঘিঞ্জি হয়ে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক জনপদ। গাড়ি মেরামতের গ্যারাজ, ব্যাটারি আর গাড়ির পার্টসের কিছু দোকান, দুই-একটা টং দোকানে চা, সিগারেট বা মনোহারী খাবার। কাছাকাছি একটা ভাতের হোটেলে রমরমা ব্যবসা হচ্ছে। জাহিদের খিদে পায়নি। কিন্তু চায়ের তেষ্টা পাচ্ছে। গত দুইমাস প্রায় সব দুপুরেই চা আর বনরুটি বা কলা খাওয়া হয়েছে। সেই অভ্যেসে পেট এখন রপ্ত। হারুন কাকার দেয়া খরচাপাতির টাকা পকেটে থাকলেও পেট সেটা মানছে না। পেট চা খুঁজছে। এই মফস্বলে সকালে হয়তো পৌষের অনুষ্ণতার ছোঁয়া ছিলো। দুপুরের গরমেও তাই দোকানের কিছু কর্মচারীর পরনে উলের সোয়েটার। দুপুরের গরমেও তারা সোয়েটার খুলে রাখেনি। জাহিদের পরনে সুটকোট। কারো পৌষ মাস কারো সর্বনাশ। গরমে জাহিদের সর্বনাশা অস্বস্তিবোধ হচ্ছে। ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। মনে হচ্ছে কোট খুলে হাতে নিলে কিছুটা স্বস্তি লাগবে। সাথে আনা বোতল থেকে জাহিদ এক ঢোক পানি খেলো। এরপর সবচেয়ে কাছের টং দোকানে এসে হালকা স্বরে বলল, 'ভাই, চা হবে?' 'রং চা, লেবু চা, আদা চা...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ২

Image
ঈশ্বর  কেতন শেখ (দ্বিতীয় পর্ব) গতকাল রাতে যখন হারুন কাকা ফোন করলেন, জাহিদ তখন প্রচণ্ড খিদে নিয়ে দুই মাসের পুরোনো শুকনো মুড়ি চিবিয়ে খাচ্ছে। হারুন কাকা তরল স্বরে বললেন, 'আর কতো মুড়ি খাবা জাহিদ? শোনো ... একটা পার্সেল আছে। সেটা ঈশ্বরগঞ্জের দত্তপাড়া বাজারে দিয়ে আসতে হবে। কাজটা করবা কি না বলো। তুমি এই কাজের জন্য বিশ হাজার টাকা পাবা, আর বাড়তি খরচাপাতি পাবা। মুড়ি খাওয়া বন্ধ করো।' 'কিসের প্যাকেট কাকা?' 'মাদকের। এর বেশি কিছু বলতে পারব না। সকাল সকাল রওনা দাও। বিকাল চারটায় দত্তপাড়া বাজারে সোলেমান নামের একজনকে এই প্যাকেট দিয়ে কালকেই ঢাকা ফিরে আসবা। আমি তোমাকে সোলেমানের নম্বর পাঠাচ্ছি। দত্তপাড়া পৌঁছানোর আগে তাকে ফোন করবা না। তুমি এর আগে ঐ এলাকায় গেছো?' 'জি না কাকা, তবে গৌরীপুর গেছি। ময়মনসিংহ গেছি।' 'ঈশ্বরগঞ্জ কাছাকাছিই। দত্তপাড়াও পরিচিত বাজার, এলাকার সবাই জানে। সদরে পৌঁছে যাকে জিজ্ঞেস করবা, রাস্তা বলে দেবে।' 'ঈশ্বরগঞ্জ পর্যন্ত কোন ট্রেনে যাব কাকা? কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে যাব নাকি গৌরীপুর হয়ে যাব?' 'হারুন কাকা কিছুক্ষণ চুপ থেকে বিরক্ত স্বরে বললেন, কথা ...

কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ১

Image
  ঈশ্বর  কেতন শেখ (প্রথম পর্ব) শিমুলতলী মোড়ে বাস থামিয়ে ধমকের স্বরে চালক বললেন, 'ঈশ্বরগঞ্জের যাত্রীগণ এইখানে নামেন। সামনে চেকপোস্ট। বাস আর সামনে যাবে না।' বাস থেকে নেমে জাহিদ হকচকিয়ে গেলো। দুইশ গজ দূরে পল্লী বিদ্যুৎ ভবনের সামনে তারকাঁটার অবরোধ দিয়ে পুলিশ রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। সেখানে পুলিশ বাহিনীর দু'টো নীলরঙা পিকআপ আর একটা জংধরা আসামী গাড়ি। এলাহী আয়োজন।  হারুন কাকার কথামতো পুলিশের তল্লাশি চেকপোস্ট থাকার কথা নরসুন্দা নদীর সেতু পার হয়ে বুলু মার্কেটের কাছাকাছি রাস্তায়। কিন্তু বাংলাদেশ পুলিশ হারুন কাকার অনুমান অনুযায়ী কাজ করেনি... সেতুর আগেই তল্লাশির ব্যবস্থা করে রেখেছে। এর অর্থ হচ্ছে যে ঈশ্বরগঞ্জ সদরে ঢোকার আগেই তারা সব তল্লাশি সেরে ফেলতে চায়। তল্লাশি নিয়ে যার দুশ্চিন্তা নেই, সেটা করার জন্য পুলিশের স্থান পরিবর্তন করা নিয়েও তার হকচকানোর কোনো কারণ থাকার কথা না। দৈনন্দিন জীবনে পুলিশি তল্লাশির কোনো ভয় জাহিদকে বিচলিত করে না। ও কাজ করে একটা বিমা প্রতিষ্ঠানে। বিমার কাজে এখানে সেখানে বাসে বা ট্রেনে যাতায়তের সময় ও অনেকবারই পুলিশী তল্লাশির মুখোমুখি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র, জাত...