কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৪

 





 ঈশ্বর

কেতন শেখ 


(চতুর্থ পর্ব)



এই ধরনের তথ্য যাকে তাকে দেয়ার কোনো ইচ্ছেই জাহিদের নেই। পানি শেষ করে ও চায়ে চুমুক দিলা।


ছালা পরা লোকটা দমে যায়নি। অন্যদিকে তাকিয়ে থেকে আগের মতোই উদাসীন স্বরে সে বলল, 'এই প্রশ্নের উত্তর মানুষকেই দিতে হবে। ঈশ্বর এই প্রশ্নের উত্তর দেননি। ঈশ্বর শুধু পানি আর পৃথিবী দিয়েছেন।'


জাহিদ চুপচাপ চায়ে মনযোগ দিলো। চা ভালো হয়েছে। কণ্ঠনালী দিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে যাচ্ছে না, আরামেই যাচ্ছে। বাড়তি চিনির কারণে হলেও দুই চুমুক দেয়ার পরে শরীর চনমনে লাগছে। পৌষ মাসে শরীরে চায়ের আবেদন ভিন্ন হয়ে যায়। সেই ভিন্নতা টের পাওয়া যাচ্ছে। জাহিদ হালকা স্বরে বলল, 'চা ভালো বানিয়েছেন ভাই।'


'সামদানী ভালো চা বানায়। সেই কারণে আমিও চা খেতে শিমুলতলী মোড়ে তার দোকানে আসি।'


ছালা পরা লোকটা এবার জাহিদের দিকে তাকিয়েই কথা বলেছে। তার সাথে একটা দৃষ্টি বিনিময়ও হয়েছে। এরপর কথা না বলাটা সরাসরি অভদ্রতা হবে। বিমা বিক্রেতার পক্ষে সেই অভদ্রতা করা সম্ভব না। অচেনা অজানা লোকজনের সাথে কথা বলা জাহিদের পেশাগত অভ্যেসে পরিণত হয়েছে। পেশাগত অভ্যেস রন্ধ্রে ঢুকে ঘর সংসার করা শুরু করে। ঘর সংসার করা আচরণ উপেক্ষা করার ক্ষমতা মানুষের নেই। বরং সেসব আচরণের দাস হয়ে মানুষকে চলাফেরা করতে হয়। জাহিদ ছোট করে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, 'চা আসলেই ভালো। আপনি চা খাবেন?'


'আমি চা খাব না। তবে আপনাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আমার অস্বস্তি হচ্ছে। আপনি আমার পাশে বসে আরাম করে চা খান।'


'জি না, বসব না। অনেকক্ষণ বাসে বসে ছিলাম। দাঁড়িয়ে থাকতে খারাপ লাগছে না।'


ছালা পরা লোকটা অল্প হাসল। সহজ সরল শিশুর মতো হাসি। জাহিদের ধারণা ছিল লোকটার দাঁত ময়লা হবে। সেই ধারণা ভুল। লোকটার দাঁত ঝকঝকে সাদা। গাঁজা-চরষ তো দূরের কথা, এই লোক খুব সম্ভবত ধূমপানও করে না। চাপকলের পানিও হয়তো খায় না। তার পরনের ছালাতে কোনো ময়লা আবর্জনা নেই। বেশ পরিষ্কার ছালা। ছালার নিচে লোকটা কালো রঙের জিন্সের প্যান্ট পরেছে। পায়ে চামড়ার স্যান্ডেল। এই লোক টাউট বাটপার হতেই পারে না। টাউট বাটপার লোকজন ময়লা ছালা খালি পা দেখিয়ে সাধু সন্ন্যাসীর ভড়ং ধরে। এই লোক নিশ্চই গোয়েন্দা, ছদ্মবেশে এখানে বসে যাত্রীদের সাথে আলাপ কবে কথা বের করার চেষ্টা করছে।


চলবে...

Comments

Popular posts from this blog

কেতন শেখ-এর কবিতা - রঙ

The Price of Money - Joishtho 1432

কেতন শেখ-এর কবিতা - ঘনান্ধকার