কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৫











 ঈশ্বর

কেতন শেখ

(পঞ্চম পর্ব)


গত তিন-চার মাস ধরে ময়মনসিংহে অপরাধের ঘটনা খুব বেড়েছে। সংবাদপত্রে প্রায় রোজই আঞ্চলিক খবর গৌরীপুর, আঠারোবাড়ি, উচাখিলা বা ঈশ্বরগঞ্জের খুন, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, অপহরণ বা গুমের ঘটনার রোমহর্ষক প্রতিবেদন আসছে। এসব কারণে ধরপাকড়ও চলছে। সকালে হারুন কাকার সাথে ফোনে কথা বলার সময় এসব ঝুঁকির কিছুটা টের পাওয়া গেছে। বাসে উঠার আগে তিনি ফোনে বললেন, 'কেউ আগ বাড়ায়ে কথা বলতে গেলে বিমা বিক্রেতার মতো আলাপে বসে যেও না। ঐ এলাকায় এখন কড়া প্রহরা। কে কোন ধান্দায় কী আলাপ করবে কোনো ঠিক নাই।'

'জি কাকা।'


'ডিবির লোকজন ছদ্মবেশে দোকানপাটে বা মার্কেটে ঘুরছে। অনেকে সিএনজি চালকের বেশেও আছে। তারা স্থানীয় সাধারণের বেশে আগন্তুকদের সাথে আলাপ পরিচয় শুরু করে। মফস্বলের লোকজন আলাপ পরিচয় করায় ওস্তাদ। আমার দুই এজেন্ট এই কুশলাদীর খপ্পরে পড়ে ডিবির হাতে ধরা পড়েছে। তারা ধরা না পড়লে তুমি এই কাজ পেতে না। বুঝেছো?'


'জি কাকা, বুঝেছি। আমি সাবধানে থাকবো।'

ছালা পরা লোকটাকে এখন সত্যিই ছদ্মবেশে থাকা ডিবির লোক মনে হচ্ছে। সে হাসিমুখেই বলল, 'আমি রোজ গোসল করি। আমার পরনে ছালা, কিন্তু আমার শরীরে কোনো দুর্গন্ধ বা রোগবালাই নেই। আপনি নিশ্চিন্তে আমার পাশে বসতে পারেন।'


'আরে না ভাই... আমি ঐসব নিয়ে একেবারেই ভাবছি না। আমার দাঁড়িয়ে থাকতে ভালো লাগছে।'

'আপনি হয়তো ভাবছেন আমি ছদ্মবেশে থাকা মানুষ, ভংচং করছি। হয়তো আপনার ধারণা আমি অন্য কোনো ধান্দায় আছি। পাশে বসে আলাপ করলে আমি আপনার ক্ষতি করবো। এসব ধারণা সঠিক না। আমাকে যেমন দেখছেন, আমি মানুষটা এরকমই।'


'না ভাই, আমি এসব কিছুই ভাবছি না।'

'ভাবলেও ক্ষতি নেই। আমার বেশভূষা দেখে লোকে আমাকে টাউট-বাটপার ভাবে, বা সাধু সন্ন্যাসীর বেশে পুলিশ বা প্রশাসনের লোক ভাবে। এসব ধারণা একেবারেই সঠিক না। আমি সাধু সন্ন্যাসী বা দরবেশ নই, বা ছদ্মবেশে থাকা ভিন্ন পরিচয়ের কেউও নই। আমার নাম রবিচন্দ্রণ মৈত্র। স্থানীয় লোকজন আমাকে মৈত্রদা বা মৈত্রবাবু বলে সম্বোধন করে। আমি এই এলাকার একজন সাধারণ মানুষ।'

চলবে...

Comments

Popular posts from this blog

কেতন শেখ-এর কবিতা - রঙ

The Price of Money - Joishtho 1432

কেতন শেখ-এর কবিতা - ঘনান্ধকার