কেতন শেখ- এর গল্প- ঈশ্বর - পর্ব ৬
ঈশ্বর
কেতন শেখ
(ষষ্ঠ পর্ব)
জাহিদ অনেক সাবধানে বিস্ময় গোপন করল। লোকটার বাচনভঙ্গির পুরোটা জুড়ে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। তার দৃষ্টি শান্ত, অবিচল অথচ কোমল। রবিচন্দ্রণ মৈত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশ ভারিক্কি গোত্রের পদবীসহ নাম। রাস্তার টাউট-বাটপার বা ছদ্মবেশে থাকা ডিবি অফিসার ভড়ং ধরার জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের এত ভারিক্কি কোনো নাম নেবে না। এই লোক কথা বলছে অকপটে, খুবই সহজ সাবলীল ভঙ্গিতে। এর অর্থ হচ্ছে যে এই লোক সাধারণ মানুষের যেকোনো অনুমানের সাথে পরিচিত। বহুদিন ধরে এসব অনুমান শুনে সে অভ্যস্ত। এই লোকের যেই ধান্দাই থাকুক, সেই ধান্দায় সে ঘাগু। এখন আরো বেশি সাবধানতার সাথে কথাবার্তা বলতে হবে। বিন্দুমাত্র অসাবধানতায় এই লোক সব কথা বের করে নিতে পারবে।
মুঠোফোনে বার্তা এসেছে। হারুন কাকা তার বেনামি নম্বর থেকে বার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে লেখা, 'বিকাল পাঁচটায় জাহাঙ্গীর আলমের মহাসমাবেশ, দত্তপাড়া বাজারে। তার আগেই পার্সেল ডেলিভারি করতে হবে। কান্নি লাগায়ে যেও না। হাতে সময় নিয়ে যেও।'
জাহিদ দ্রুত লিখল, 'জি কাকা, সেরকমই করব।'
ঘড়িতে তিনটা পাঁচ বাজছে। সেতু পার হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ সদর পর্যন্ত বাস গেলে সেখান থেকে দত্তপাড়া পৌঁছাতে দশ পনেরো মিনিটের বেশি লাগার কথা ছিলো না। কিন্তু এখন সামনে পুলিশের তল্লাশি চলছে। সেখানে আটকে গেলে শুধু সময়ই না, আম ছালা আঁটি সবই যাওয়ার সমূহ বিপদ আছে। মাদকসহ ধরা পড়লে সরাসরি হাজতে যেতে হবে। জাহিদ মনে মনে প্রমাদ গুনলো। অভাবের তাড়নায় হারুন কাকার এই বেআইনি কাজে সম্মত হওয়া একেবারেই উচিত হয়নি। ও হারুন কাকার ওয়ান অফ দালাল, স্থায়ী এজেন্ট না। মাদকসহ গ্রেফতার হলে জামিন তো দূরের কথা, হারুন কাকা ওকে চিনতেও অস্বীকৃতি জানাবেন।
চলবে...

Comments
Post a Comment