ডি টক্স (কেতন শেখ-এর রম্য সিরিজ) - অনুবাদ - বরবাদ
ডি টক্স
কেতন শেখ-এর রম্য সিরিজ
অনুবাদ - বরবাদ
আমি যখন এস এস সি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তখনও বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষা-ব্যবস্থায় অবজেক্টিভ সিস্টেম, মাল্টিপল চয়েজ, ইন্টেরাক্টিভ টিচিং, প্রবলেম ফোকাসড লার্নিং ইত্যাদি টাইপের আধুনিকায়ন শুরু হয়নি। এখনকার জেনারেশন এসব আধুনিক প্রক্রিয়ায় পড়ালেখা করছে। আমরা এসব কিছুই পাইনি। আমাদের সময়টা ছিলো “পড়বি না মানে! পড়্!”
আজকের লেখা সেই সময়ের পড়ালেখার গল্প নিয়ে।
আমাদের স্কুল পর্যায়ের শিক্ষা-ব্যবস্থা ভয়াবহ ছিলো। আমার আজকের লেখা সেই সময়ের একটি বিভ্রাট নিয়ে ... তাই আমি বরং শুরুতেই আমাদের এস এস সি পরীক্ষার ভয়াবহ সেসব অভিজ্ঞতার কিছুটা বলে নেই।
আমাদের সেই সময়ে যে বিষয়টি নিয়ে মোটামুটি সবারই প্রাথমিক দুঃস্বপ্ন ছিলো, সেটা ছিলো গণিত ... আর বিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি’ ... গণিতের সাথে ফ্রি দুঃস্বপ্ন ছিলো ইলেক্টিভ ম্যাথ। তাই গণিতের জন্য মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়েরা ব্যাচে পড়তে যেতো। আমাদের দেশের অসাধারণ কিছু গাণিতিক প্রতিভা যারা এখন বিশ্বসেরা প্রোগ্রামার, ইন্জিনিয়ার, বিজ্ঞানী বা অধ্যাপক হয়েছেন, তারা প্রায় সবাই-ই একটা সময়ে (বিশেষ করে নব্বই দশকের আগে) গণিত আর ইলেক্টিভ ম্যাথের ভয়ে দিশেহারা হয়ে ঘুরতেন ব্যাচ থেকে ব্যাচে।
আমরা দশ-বারোজন ছাত্র ঠাসাঠাসি করে একটা কামরায় বসতাম, এবং ব্যাচের স্যার বা ম্যাডাম যন্ত্রের মতো এক নাগাড়ে আমাদেরকে অংক করাতেন। সেসব স্যার বা ম্যাডামরা তখন আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সেলিব্রিটি ছিলেন। আমাদের সবার মুখে মুখে তাদের গল্প থাকতো। আমরা প্রবল উত্সাহ নিয়ে তাদের অংক বুঝানোর স্টাইল অনুকরণ করতাম। এরকম আনন্দ করতে করতে কিছুটা অংক শিখেও ফেলতাম। না শিখলেও ক্ষতি নেই .... কারণ সব বন্ধুরা মিলে পড়তাম আর ভাবতাম, “আমি যখন বুঝি নাই, নিশ্চই আর কেউও বুঝে নাই”।
বুঝে হোক আর না বুঝে হোক, গণিত-ত্রাস কোনোভাবে কেটে যেতো। কারণ ক্লাস নাইন থেকেই আমাদেরকে গণিতের কোচিং করানো হতো। আর গণিতে পরীক্ষা পাস করার একটি গাণিতিক ব্যবস্থাও আবিষ্কৃত হয়েছিলো ... কোন কোন প্রশ্নের উত্তর মোটামুটি লিখতে পারলে ৩৩ উঠানো যাবে, সেই প্ল্যানিংও করা যেতো।
বাংলাদেশের মধ্যবিত্তদের মধ্যে একটা প্রচলিত ধারণা ছিলো (বা এখনও আছে), ‘যেই সন্তান অংক পারে না, তার মাথা মোটা এবং তার জীবনে কিছুই হবে না’। উচ্চবিত্তের ছেলেমেয়েরা আর্টস-কমার্স লিটারেচার ইত্যাদি পড়ে পারিবারিক ব্যবসা বা সম্পত্তি দেখবে, কিন্তু মধ্যবিত্তের ভালো চাকরী পাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে অংকে ভালো করা। আরেকটি বিষয় ছিলো (যেটা হয়তো এখন আর নেই) ... অংকে ভালো না করলে পাড়া-মহল্লায় বা পরিবারে মা-বাবার ইজ্জত যাবে। মা-বাবার ইজ্জত রক্ষা করতে হলে গণিতে লেটার মার্ক (আশি বা তার বেশী) পেতেই হবে। এসব কারণে ক্লাস নাইন থেকেই সেটার কোচিং করতে হবে। সেটা ছিলো একেবারে পারিবারিক লেভেলের অনুপ্রেরণা ... অর্থাত চিকন না, একেবারে মোটা-মোটিভেশন। এখন খুব সম্ভবত ইজ্জত রাখার ব্যাপারটা গণিতের সাথে আর সম্পর্কিত না, কারণ এখন জিপিএ ফাইভ বা গোল্ডেন জিপিএ-র সময়। আর তাছাড়া ফেসবুকের কারণে মা-বাবার ইজ্জতহানীর আরো অনেক ব্যবস্থাও হয়েছে। মা-বাবার ইজ্জত এখন মা-বাবার হাতেই চলে গেছে। আমাদের সময় তার অনেকটাই ছিলো আমাদের পরীক্ষার রেজাল্টের ওপর নির্ভরশীল।
আমাদের সময় আরেকটা জটিল বিষয় ছিলো ... সেটা হচ্ছে ইংরেজি। এই বিষয়ের কোচিং এতোটা আগে থেকে সাধারণত করানো হতো না। আমি সরকারী স্কুলের ছাত্র ছিলাম। ইংরেজি নিয়ে আমাদের অবস্থা এমন ছিলো যে শিক্ষাবোর্ডের কারিকুলামে তখন যদি ইংরেজির বদলে গ্রীক বা হিব্রু পড়ানো হতো, আমাদের কাছে সেটা একই রকম দুর্বোধ্য লাগতো।
সেই সময়ে খুব অল্প কিছু ইংরেজি মিডিয়াম স্কুল ছিলো। কিছু নামকরা আধুনিক বেসরকারী স্কুলেও কিছুমাত্রায় উন্নত ইংরেজি শেখানো হতো। আমাদের ধারণা ছিলো যে, যেসব ছেলেমেয়েরা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে বা ঐসব বেসরকারী স্কুলে পড়ে, তাদের মা-বাবা মোটামুটি রাজা-বাদশা টাইপের বিত্তবান, আর তাদের শরীরে ভিন্ন একটা গন্ধ। বিদেশ থেকে আসা আত্মীয়-স্বজন তাদের স্যুটকেস খুললে যেমন একটা বিদেশী গন্ধ বের হয়, সেরকম একটা গন্ধ। আমাদেরকে এটাও বলা হয়েছিলো যে, ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া ছাত্রছাত্রীরা আমাদের তুলনায় অনেক বেশী স্মার্ট, আর ভবিষ্যতে তারাই আমাদেরকে চাকরী-বাকরি দেবে। এর কারণ ছিলো তাদের ইংরেজির দখল, আর আমাদের (সরকারী স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের) ইংরেজির ভয়। বড় হয়ে চাকরী খোঁজার সময় অবশ্য আমি আর তাদের দেখা পাইনি।
আমার আজকের লেখা আমাদের সেই সময়ের ইংরেজির ভয় আর সেই ভয় থেকে জন্ম নেয়া বিভ্রাটকে নিয়ে। শুরুতেই বলে নেই, আমি আমার অভিজ্ঞতা এবং নিজস্ব উপলব্ধি থেকে কথা বলছি, এবং আমার এসব কথাবার্তাকে জেনারেলাইজড-ভাবে নেয়াটা কোনোভাবেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
প্রবাসে আমার অনেক কৃতবিদ্য বন্ধুবান্ধবরা আছেন যারা আমার এই ধরণের কথাবার্তা একেবারেই পছন্দ করেন না। আমি এই ধরণের কথাবার্তা শুরু করলেই তারা বলেন, “আরে ... এসব আপনি কী বলেন ... কই, আমরা তো খুব আগ্রহ নিয়ে পড়তাম! আর সেই সময় তো পড়ালেখার স্বর্ণযুগ ছিলো! আপনি নিজে পড়াশোনায় ফাঁকিবাজি করতেন বা ভয় পেতেন বলে কি এসব বলতে হবে!”
তেমনই একজন ভদ্রমহিলা আমাকে একদিন বললেন, “আপনি কিছুই জানেন না ... মেট্রিক ক্লাসে আমি অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়তাম। ইংরেজি পড়ার সময় আমি শেক্সপিয়ারের ছবি সামনে টাঙিয়ে রেখে পড়তাম। ভূগোল পড়ার সময় কল্পনায় তুন্দ্রা অন্চল দেখতে পেতাম। আফ্রিকার আমাজন নদী স্বপ্নে দেখতাম! সেই নদীতে গোসলও করতাম!”
তাদের এসব কথা কতোটুকু সত্য
তা জানি না, তবে আমার স্মৃতির সাথে একেবারেই বেমানান। আমার জন্য সেই সময় পড়ালেখার
স্বর্ণযুগ একেবারেই ছিলো
না। সেই সময়ের শিক্ষাবোর্ডের দায়িত্বে থাকা শিক্ষাবিদরা ইংরেজির মতো একটা সহজ ও
সাবলীল ভাষাকে আমাদের জন্য দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছিলেন। তাদের তৈরী করা সিলেবাস, শিক্ষা-পদ্ধতি,
পরীক্ষা-পদ্ধতি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার কারণে আমাদের শ্রদ্ধেয় স্কুল-শিক্ষকরাও
ইংরেজিকে একটি অস্বস্তিকর বিষয় হিসেবে আমাদের কাছে নিয়ে আসতেন। এস এস সি পরীক্ষা
পর্যন্ত আমরা ইংরেজি ভাষার প্রতি চরম অনীহা নিয়ে আর সেই ভাষার ব্যাপারে কোনোরকম
ধারণা ছাড়াই পড়তে থাকতাম।
সেই সময়ে আমাদের ইংরেজি শিক্ষার অবলম্বন ছিলো ইংরেজির পাঠ্যবই, গ্রামার বই, নোটবই আর মোটাসোটা আকারের টেস্ট পেপার বই। শিখতে ভুল করলে মোটিভেশন হিসেবে দেয়া হতো বেত্রাঘাত, চপেটাঘাত আর কদুক্তি। আমার বিবেচনায় সেই ধরণের পড়াশোনায় চোদ্দ-পনেরো বছর বয়সী কারও আগ্রহ থাকার কথা না। আমরা প্রবল ঘৃণা, ভীতি আর অনিচ্ছা নিয়ে ইংরেজি পড়তাম, আর প্রতিনিয়ত ভাবতাম এর থেকে কবে নিষ্কৃতি পাবো।
উদাহরণ দিচ্ছি। ইংরেজির ব্যাচে পড়ার সময় একবার আমি ভিক্ষুকের ইংরেজি শব্দ লিখতে গিয়ে বানান ভুল করে begger লিখে ফেললাম। আমার শিক্ষক প্রবল প্রতাপে আমাকে বললেন, “আরে ব্যাটা ‘বেগার’ লিখবি ‘বেগের’ লিখছিস কেন? ... বানান কবে শিখবি? এক্ষুণি ঠিক করে লেখ!”
আমি তাঁর চড় থেকে বাঁচার তাগিদে তাড়াতাড়ি সঠিক বানান লিখলাম। তিনি সহৃদয় হয়ে বললেন, “এখন থেকে আর ‘বেগার’ বলবি না ... বানান যেন মনে থাকে, সেই জন্য বলবি, ‘বেগগার’। এই রকম করে বললে বানান মনে থাকবে, বুঝলি ... এখন বল আমার সাথে, বেগগার!”
আমি তুমুল অনিচ্ছা নিয়ে বললাম, বেগগার।
তিনি আমার ইচ্ছা-অনিচ্ছার ধারেকাছেও গেলেন না। গম্ভীর স্বরে বললেন, গুড। আর একবার যদি বেগার বানান ভুল লিখিস, বা বলার সময় বেগগার না বলিস, তাহলে মনে রাখবি, তুই একদিন বেগগার হয়ে যাবি।
ভবিষ্যতে বেগগার হওয়ার ভয়ে আমি নিয়মিত বেগগার বলা শুরু করলাম। বাংলাতেও আর ভিক্ষুক বা ভিখিরি বলি না। মসজিদের বাইরে ভিক্ষুক দেখে একদিন ভাইকে বললাম, এখানে এতো বেগগার কেন? ভবিষ্যতের সেই ভয়ে আমার বর্তমানের অবস্থা বরবাদ হয়ে গেলো। আমার বন্ধু ও সহপাঠীরা আমাকে "বেগগার কেতন" ডাকা শুরু করলো। আমার বাবা ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি নিয়মিত ঘরে সিডনি শেলডনের উপন্যাস, টাইমস আর রিডার্স ডাইজেস্ট পড়তেন। পুত্রসন্তানের মুখে বেগগার শুনে তিনি চরম বিমর্ষ হয়ে পড়লেন। আম্মাকে বললেন, এসব কি হচ্ছে? ও কার থেকে ইংরেজি শিখছে? ওয়াট অন আর্থ ইজ গোয়িং অন?
“আর্থে” তখন আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের এই অভিনব বানান-শিক্ষা-পদ্ধতি “গোয়িং অন”, আর আমাদের ব্যাচে তখন বিরাজমান নতুন এক ত্রাস। অল্প সময়ে সেই ত্রাস ভয়াবহ রূপ ধারণ করলো। আমাদের শিক্ষকের আচার-আচরণে মনে হলো তিনি এই আবিষ্কারে মুগ্ধ ও আপ্লুত। এরপর যখনই কেউ বানান ভুল করে, তিনি সেই শব্দের উচ্চারণ বদলে দেন, যেন এরপরে সেই বানান সবার মনে থাকে।
কিছুদিনের মধ্যে আমাদের ব্যাচের ছাত্ররা ‘ডিজেল’কে বলতে থাকলো ডাইসেল (Diesel), ‘এজুকেশন’কে বলতে থাকলো এডুকেটিওন (education), ‘কালার’কে বলতে থাকলো কোলআওয়ার (colour), ‘কোরাপশন’কে বলতে থাকলো কোররাপটিওন (corruption), ‘ফলস’কে বলতে থাকলো ফলসে (False), ইত্যাদি। কে কোন বানান ভুল করেছে এই নিরিখে বন্ধুদের নাম বদলে গেলো। বেগগার কেতনের সাথে যোগ হলো ডাইসেল মাসুদ, কোলআওয়ার কামরুল, ফলসে মাহবুব, ইত্যাদি।
ভয়াবহ অবস্থা! ... আমরা বাংলা থেকে ইংরেজি অনুবাদ করছি, আর সেটা মুখে বলছি। মুখে বলার সময় সেটা শুনে মনে হতো আমরা একেবারে ভিন্ন একটা ভাষা বলছি। আমাদের মধ্যে যারা কিছুটা ইংরেজি জানে, তারা প্রচন্ড লজ্জা নিয়ে এসব বলতে থাকলো। পুরো গ্রুপে তখন নাম নিয়েও হিমশিম অবস্থা। সবার নাম পরিবর্তন হওয়ার পরে জনস্বার্থে নামকরণের দুষ্টামী বন্ধ হলো।
তবে আমি বাসায় রক্ষা পেলাম না। বাসায় আমার মুখে এসব শব্দের এই ধরণের উচ্চারণ শুনে বাবা পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গেলেন। অধিক শোকে মানুষ পাথর হয়। আমার বাবা লোহা হয়ে গেলেন। আম্মা তাঁর স্বামীকে লোহা হিসেবে আগে কখনও দেখেননি। দেখার পরে তাঁর হয়তো পছন্দও হলো না। তিনি আমাকে ব্যাচ বদলে অন্য শিক্ষকের কাছে যাওয়ার জন্য তাগাদা দিতে থাকলেন। আমার জন্য প্রাইভেট টিউটরের ব্যবস্থা করলেন।
এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য আমরা দিনরাত প্রার্থনা করতে থাকলাম। প্রকৃতি নির্দয় নয়। এতোগুলো কিশোরের প্রার্থনা বৃথা যাওয়ার কথা না। আমরা নাটকীয়ভাবে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেলাম। সেই গল্প বলছি।
আমাদের এক বন্ধু সেই স্যারের ব্যাচে অনুবাদ করছিলো। বাংলাটা ছিলো “আমার কাছে টাকা নেই”। ও বেচারা বানানে একেবারেই কাঁচা ছিলো। ও ‘মানি (money)’ বানানটা ভুল করে ফেললো, এবং ভুল করে যেটা লিখলো সেটা আমি আমার জীবনকালে কখনও দেখিনি। ও লিখলো, I do not have munny.
আমাদের স্যার ওর উপরে রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়লেন। গাধা, আহাম্মক ইত্যাদি বিষেশণে ওকে ভূষিত করে বললেন, “তোর কাছে ‘মুন্নি’ নাই এইটা লিখছোস ক্যান! মুন্নি তোর কে লাগে? ‘মানি’ বানান জানোস না! ‘এম ও এন ই ওয়াই’ ... বল ... ‘মনি’। এখন থেকে ‘মানি’রে বলবি ‘মনি’ ... বল আই ডু নট হ্যাভ ‘মনি’ ...
আমার বন্ধু সাথে সাথে বললো, আই ডু নট হ্যাভ মনি।
- গুড। এখন বল, ‘আমি টাকা চাই’, এইটার ইংরেজি কি হবে?
- আই ওয়ান্ট মনি।
- গুড। ‘আমার টাকার দরকার’, এইটা?
- আই নীড মনি।
- ভেরী গুড। মনে রাখবি গাধা।
এরপরে আবার ‘আই নীড মুন্নি’ বলিস না, বুঝছোস? ... এই মনি, কই রে ... আমারে চা দিতে
কইলাম মনে নাই!
এই কথা বলামাত্র স্যার নিজেই হঠাত স্তব্ধ হয়ে গেলেন। আমাদের মধ্যেও তখন এক অস্বস্তিকর নীরবতা। তার কারণ হচ্ছে স্যারের নিজের মেয়ের নাম মনি। মেয়েটা আমাদের কাছাকাছি বয়সের ছিলো, আর তাই আমরা সবাই তার নাম জানতাম।
মনিকে চা দেয়ার জন্য ডাকার সাথে সাথে আমরা সবাই চুপচাপ মিটমিট করে হাসতে থাকলাম, আর এবার আমাদের স্যার অধিক শোকে লোহা হয়ে বসে রইলেন। তখন আর উচ্চারণ বদলানোর উপায় নেই। স্যারের জন্য কিছুটা মায়াও হলো, কারণ তিনি তাঁর ছাত্রকে দিয়ে ‘আই ওয়ান্ট মনি’ আর ‘আই নীড মনি’ বেশ জোরেসোরেই বলিয়েছেন। এসব বাক্যের অনুবাদ করার ব্যাপারটা ছিলো তাঁর ইম্প্রোভাইজেশন। পর্দার ওপাশে থাকা মনি চা বানাতে বানাতে নিশ্চই সেটা শুনেছে।
এরপর থেকে স্যার আর আমাদেরকে এরকম উচ্চারণ করতে বলতেন না। আমরা সেই উচ্চারণ-বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেলাম। আমরা অনেকে ব্যাচ বদলে অন্য স্যারের কাছে পড়তেও চলে গেলাম। তবে সেই স্যারকে (মনির বাবা) দূর থেকে দেখলেই আমরা হৃদয়হীনের মতো নিজেরা বলাবলি করতাম, আই ডু নট হ্যাভ মুন্নি ... আরে না না ... আই ডু নট হ্যাভ মনি, আই ওয়ান্ট মনি, আই নীড মনি ....
প্রবাসে পড়াশোনা করতে আসার পরে একটা ব্যাপার বুঝলাম ... আমাদেরকে যেভাবে ইংরেজি শেখানো হয়েছিলো, ভাষা হিসেবে ইংরেজি একেবারেই সেরকম না। ছাব্বিশ অক্ষরের এই ভাষা খুবই সহজ আর সাবলীল একটা ভাষা, আর এই ভাষায় শব্দের ভিন্নমাত্রার প্রয়োগ কোনো গ্রামার বই থেকে শেখা যায় না।
আমাকে যেভাবে ইংরেজি অনুবাদ শেখানো হয়েছিলো, সেভাবে
ইংরেজি বলতে থাকলে আমার আর বিলেতে শিক্ষকতা করতে হতো না। এখানে ইংরেজি কথোপকথন খুব অদ্ভূতভাবে এবং হালকাভাবে করা হয়।
আবারও উদাহরণ দিচ্ছি। অর্থনীতির একটা কনফারেন্সে গিয়েছি, এবং কী-নোট স্পীকারের কথা
শুনছি। একজন বিশ্বসেরা নোবেল-বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অর্থনৈতিক মন্দা ও বিনিয়োগের উপরে
ঝাড়া চল্লিশ মিনিট বক্তৃতা দিলেন। এরপরে কনফারেন্সের আয়োজক মন্চে উঠে ইংরেজিতে
বললেন, “thank
you for your seemingly tiring but utterly useful speech”। সাদা বাংলায় এর অর্থ
দাঁড়ায় “আপনার আপাতদৃষ্টিতে ক্লান্তিকর
কিন্তু নিতান্তই উপযোগী বক্তৃতার জন্য ধন্যবাদ”।
আমি তার কথা শুনে ভাবলাম, “হায় হায়, বলে কি এই লোক! সবাই তো এরে ধরে পিটাবে”! কিন্তু সেরকম কিছুই হলো না। হলভর্তি মানুষ হো হো করে হেসে ফেললো। এমনকি সেই নোবেল-বিজয়ী বক্তাও হেসে ফেললেন। আমি অবাক হয়ে বসে বসে ভাবলাম, কোন শব্দ কিভাবে কোথায় প্রয়োগ করতে হবে, সেটা আমরা কিছুই জানি না!
আমি নিশ্চিত যে আমি যদি এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে অন্য কোথাও “টায়ারিং” শব্দটা ব্যবহার করি, আমি ধরা খাবো। কারণ আমার ধারণা ইংরেজি কোন শব্দ কোথায় কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে, সেটা আমরা কখনও শিখিনি। একটা ভাবকে কতো ভিন্ন উপায়ে প্রকাশ করা যায়, সেটা আমরা কখনও শিখিনি। আমরা শিখেছি নির্দিষ্ট কিছু ট্রান্সলেশন, কম্প্রিহেনশন, essay, প্যারাগ্রাফ, ইত্যাদি। সেসবও আমরা শিখেছি একটা বাঁধাধরা উত্স থেকে (নোটবই, গ্রামার বই, টেক্সটবই ইত্যাদি)। আমাদেরকে ধারণা দেয়া হয়েছিলো যে এর বাইরে ইংরেজির কিছু নেই।
ইংরেজি আমাদের ভাষা নয় ... তাই
হয়তো আমাদেরকে
এতো বিশদভাবে এটা শেখার
কথা না। তবে শিক্ষা-পদ্ধতির আধুনিকায়নে ইংরেজি শিক্ষাকে আরো আকর্ষণীয় এবং
ব্যবহার্য করা সম্ভব। হয়তো এখন সেটা হচ্ছে। এখন ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের ধুম লেগেছে,
যেখানে ইন্টেরাক্টিভ টিচিং, প্রবলেম ফোকাসড লার্নিং ইত্যাদি দিয়ে বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদেরকে
ইংরেজিতে পারদর্শী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। আমাদের প্রজন্মের ইংরেজির দূরাবস্থার কারণে এখনকার সচেতন
মা-বাবারা অনেকেই তাদের সন্তানদেরকে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পাঠাচ্ছেন। আর সন্তানকে
ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ানো এখন স্ট্যাটাস সিম্বলও হয়ে গেছে।
বিশ্বমানের ইংরেজি শেখানোর জন্য এসব ছেলেমেয়েদের অনেককেই স্কুল এবং পরিবারের মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা সাহিত্য, বাংলা সংস্কৃতি, বাংলা চলচ্চিত্র, বাংলা শিল্প এবং সর্বোপরি বাঙালিয়ানা থেকে দূরে রাখা হচ্ছে। এসব ছেলেমেয়েদের অনেকেই বাংলা পড়তে পারে না, বা পারে কিন্তু আগ্রহী না, বা স্বীকার করতে চায় না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে আমাদের তরুণ সমাজের অনেক বড় একটা অংশ তাই এখন বাংলা সাহিত্য, বাংলা সংস্কৃতি, বাংলা গান-নাটক-চলচ্চিত্র এবং বাঙালিয়ানা থেকে দূরে চলে গেছে।
সম্প্রতি আমার সাথে একজন তরুণীর কথা হচ্ছিলো, যিনি ইন্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিলেতে এসেছেন, এবং আসার আগে সমস্ত পড়াশোনা বাংলাদেশের ইংরেজি মিডিয়ামে করেছেন। সেই তরুণী কাজী নজরুল ইসলামকে চেনেন না, এবং নজরুল গীতি বলে যে কিছু আছে সেটা তিনি জানেন না। ভাগ্যক্রমে তিনি রবীন্দ্রনাথকে চেনেন, কারণ তিনি “রকিং উইথ রবীন্দ্রনাথ” বা এই জাতীয় একটা মিউজিক এ্যালবাম শুনেছেন, এবং সেই এ্যালবামের কভারে তিনি এই কবি সম্পর্কে কিছু পড়েছেন। বিগত বাইশ বছর বাংলাদেশে জীবনযাপন করার পরও তিনি হূমায়ুন আহমেদকে চেনেন শুধুমাত্র একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে ... আর সেটাও “হ্যা হ্যা, আই হার্ড অফ হিম ... হি ইজ এ ফিল্মমেকার, রাইট?” ... ধরণের চেনা। সেই তরুণী ইংরেজি সিনেমা দেখেন, ইংরেজি নভেল পড়েন।
তার তথ্য-ভান্ডারে অবশ্য কিছু হিন্দি ব্যাপার-স্যাপার আছে। বলিউড সম্পর্কে সব তথ্য তার জানা। অনেক আগ্রহ নিয়ে তিনি অমুক খান, তমুক কাপুর আর ঝমুক খান্নার খুঁটিনাটি নিয়ে আলাপ করছেন। তাদেরকে ঘিরে তার নিজের স্বপ্নের কথা, চাওয়া-পাওয়ার বিতং বর্ণনা করছেন। কিন্তু বাংলাদেশের চলচ্চিত্র, টিভি, গান বা অন্য শোবিজ নিয়ে তার কোনো আগ্রহ নেই। বরং আমাদের শোবিজ তার কাছে ব্যাঙ্গাত্মক, বিদ্রূপকর, ও তার নিজের ভাষায়, ‘ওহ গড, এম্বারেসিং’।
এসব মানুষের সাথে আমি বেশীক্ষণ কথা বলতে পারি না। ইংরেজি মিডিয়ামের এসব কারবার দেখলে আমার মনে হয়, ইংরেজি শিক্ষার এই উদ্দেশ্য বা পরিণাম কখনোই সঠিক হতে পারে না। আজকের অভিভাবকরা যদি মনে করেন যে ইংরেজি মিডিয়ামে পড়লে এবং অবাঙালিয়ানার জীবনযাপন করলে তাদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা, ইমিগ্রেশন এবং আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার নিশ্চিত হবে, তারা মহা ভুল করছেন। বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও বিশ্বমানের ক্যারিয়ারের জন্য জ্ঞান, প্রজ্ঞা, প্রতিভা, দক্ষতা, বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের প্রয়োজন, শুধুমাত্র একটি বিদেশী ভাষার দখল নয়। শুধুমাত্র একটি বিদেশী ভাষা বা সংস্কৃতির দখল এবং সেসবের প্রতি অন্ধ প্রেম বাংলাদেশের ছেলেমেয়েদেরকে এর কোনোটাই এনে দিতে পারবে না। পারেওনি।
আমাদের ছেলেমেয়েদের মধ্যে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আর ব্যক্তিস্বাতন্ত্র শুধুমাত্র আমাদের বাংলা ভাষা আর বাঙালিয়ানা আর সেগুলোর প্রতি আমাদের সম্মান ও প্রেমই এনে দিতে পারবে। সেই কারণেই সরকারী স্কুল-কলেজ আর বাংলা মিডিয়ামে পড়া আমার বন্ধুরা আজকে ইনটেল, মাইক্রোসফট, গুগল, ডুপন্ট, এক্সনের মতো বিশ্বসেরা কোম্পানীগুলোতে শীর্ষস্থানীয় পদে কর্মরত, আর বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যাপনা ও গবেষণারত। আজকের প্রবাসী বাংলাদেশীরা যারা দেশের নাম আন্তজার্তিক পর্যায়ে উজ্জ্বল করছেন, তাদের বেশীরভাগই বাংলা মিডিয়ামে পড়া, এবং বেশীরভাগ আজও খাঁটি বাঙালী। বাংলাদেশে যারা শীর্ষস্থানে আছেন, তারাও ঠিক তাই-ই। আমার সহকর্মীদের মধ্যে যারা পূর্ব ইউরোপের, চীন দেশের, জাপানের বা ল্যাটিন আমেরিকার, তাদের ইংরেজি উচ্চারণ আর ভাষার দখল আমাদের মতোই। কিন্তু তারা বিশ্বজয় করছেন। তারা তাদের নিজস্বতায় অনেক গর্বিত।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, খাঁটি ব্রিটিশ ইংরেজরা কিন্তু তাদের দেশের অভিবাসীদের নিজস্বতাকেই বেশী পছন্দ করে। তারা আমার কাছে প্রায়ই বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা আর বাংলা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চায়, আমাদের ভাষার ইতিহাস, ভাষা সংগ্রাম আর সাহিত্যের ধারা সম্পর্কে জানতে চায়। নজরুল, লালন শাহ, হাসন রাজা আর হূমায়ুন আহমেদ সম্পর্কে জানতে চায়। গ্রামীন ব্যাংক সম্পর্কে জানতে চায়। এই সৌভাগ্য আমরা কোথায় রাখি!
দুঃখের বিষয় হচ্ছে যে আমাদের বাঙালিয়ানা ব্যক্তিস্বাতন্ত্রের আর নিজস্বতার এই সম্মান বিদেশীরা করে, আর আমাদের আপন কিছু মানুষই করে না। এই দুর্ভাগ্য আর লজ্জা আমরা কোথায় লুকাই!
আমি বাংলাদেশে ইংরেজি ভাষার শিক্ষা বা ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলের বিপক্ষে নই। শুদ্ধ এবং ব্যবহার্য ইংরেজি শেখার প্রয়োজন আছে, গুরুত্ব আছে, এবং আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এর অনেক ভালো প্রভাবও আছে। কিন্তু আমার ভয় হচ্ছে যে ইংরেজি শিক্ষার ভীতি বা বিভ্রাট, আর হয়তো সেটা থেকেই জন্ম নেয়া ইংরেজির প্রতি আমাদের অহেতুক দুর্বলতা একদিন আমাদের বাঙালিয়ানাকে বড় কোনো ক্ষতির দিকে নিয়ে যাবে।
আজকের ইংরেজি মিডিয়ামে পড়া তরুণ-সমাজের অনেক বড় একটা অংশ (ঢালাওভাবে সবাই না) একুশে বইমেলায় যায় না, কারণ হিসেবে বলে ধূলা আর মানুষের ভিড়ের কথা। তাদের সাথে বন্ধুত্বের কারণে আরও অনেকেই বইমেলায় যায় না। কিন্তু তারা সবাই ধূলা আর ভিড় উপেক্ষা করে ভারতীয় বা পশ্চিমা পপস্টারদের কনসার্টে যায়, বাণিজ্য-মেলায় যায়। এদের অনেকে বিদেশে এসে বিদেশীদের সাথে বন্ধুত্ব করার সময় আমাদের সংস্কৃতি, সাহিত্য, চলচ্চিত্র আর শিল্পের কোনো প্রতিনিধিত্ব করে না। কে জানে হয়তো আমাদের সংস্কৃতি নিয়ে তারা নেতিবাচক ও অবিবেচক মন্তব্যও করে। কারণ এসব সম্পর্কে এদের কোনো ধারণাই নেই। এমনটা চলতে থাকলে আমাদের সামনে ভয়াবহ বিপদ আছে।
আজকের লেখা শুরু করেছিলাম রম্যভাব নিয়ে, কিন্তু কেন যেন লেখাটা একটু সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছে। বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতির প্রতি আমার প্রচন্ড আবেগটা লেখাতে চলে আসে। তবে আজকের লেখা শেষ করবো রম্য দিয়ে। আমি আমার নির্বাচিত সেরা দশ “বাংলা থেকে ইংরেজি” অনুবাদ দিচ্ছি। এসব অনুবাদ আমরা আমাদের এস এস সি-র সময় করতাম। তবে আজকে আমি সেই মুখস্থ করা ‘সঠিক’ অনুবাদ দেবো না। লেখাতে এক পর্যায়ে আমি বলেছি যে ইংরেজি একটি চমত্কার সহজ ভাষা, যার মাধ্যমে অনেক ধরণের ভাব প্রকাশ করা যায়। আজকে আমি দিচ্ছি সেরা দশ ‘মডার্ন ডে ট্রান্সলেশন’, অর্থ্যাত আজকের সময়ে আমাদের সেই বিখ্যাত অনুবাদের রূপ। আমার দেয়া সেই রূপে যেমন ইংরেজির একটা ভিন্নপ্রয়োগ থাকবে, তেমনই আমাদের আজকের সময়ে সেসব প্রবাদের বা বাক্যের কি ধরণের ভিন্ন অর্থ থাকতে পারে, সেই একটা প্রচেষ্টাও থাকবে।
লেখা শেষ করার আগে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে নেই। আমরা জীবনে যা কিছুই অর্জন করেছি, তার অনেকাংশের কৃতিত্ব আমাদের শ্রদ্ধেয় স্কুল-শিক্ষকদের। সেই সময়ে তাঁরা অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমাদেরকে যত্ন করে পড়িয়েছেন বলেই আমরা অনেক কিছু শিখেছি। তাঁরা তাঁদের একাগ্রতা, সততা ও উত্সর্জন দিয়ে আমাদেরকে পড়িয়েছেন। সেই জন্য আমরা তাঁদের কাছে চীরকৃতজ্ঞ।
আমার লেখায় তাঁদেরকে নিয়ে
রম্য করা হলেও তাঁদেরকে অসম্মান করার কোনো উদ্দেশ্য আমার কখনোই ছিলো না। শিক্ষককে
সম্মান করার সেই মনুষত্বও
তাঁদেরই শিক্ষা। আমি তাঁদের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা জানিয়ে আর সেরা দশ মডার্ন ডে
ট্রান্সলেশন দিয়ে আজকের লেখা শেষ করছি। সবার জন্য শুভকামনা রইলো।
টপ টেন মডার্ন ডে ট্রান্সলেশন
১০. বন্যেরা বনে সুন্দর,
শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।
When influencers are triggering hatred in You Tube, we should read books.
৯. দারিদ্র্য একটি অভিশাপ।
We no longer have a budget for poverty alleviation.
৮. আমার জলে কুমীর ডাঙ্গায়
বাঘ।
I am a law-abiding peace-loving citizen of Bangladesh.
৭. চকচক করিলেই সোনা হয় না।
Think carefully before voting on the basis of election campaign promise.
৬. আমি জেনেশুনে বিষ করেছি
পান।
I just got married for the second time.
৫. স্টেশনে আসিবার পূর্বে
ট্রেন ছাড়িয়া দিলো।
I will not marry until I find Ms./Mr. perfect.
৪. মানুষ দাঁত থাকিতে দাঁতের
মর্যাদা বুঝে না।
The loudest patriots always live abroad.
৩. বাড়ি থেকে নদী দেখা যায়।
My neighbour Nodi's bedroom is just across my window.
২. ডাক্তার আসিবার পূর্বে
রোগী মরিয়া গেলো।
The doctor works for NHS UK.
১. মানুষ মাত্রই ভুল।
I am always right.
**************************************************
©কেতন শেখ
রম্য সিরিজ ডি টক্সে প্রকাশিত।








.jpg)
দারুণ লেখা। তবে আমি ‘আফ্রিকার আমাজন নদী’ তে সাঁতার কাটতে চাই 😁
ReplyDeleteঅনেক হেসেছি গল্পটা পড়ে। অনেক কিছু মনে পড়ে গেলো কিন্তু সেই অভিনব পন্থার ইংরেজি শব্দের বানান আজকে প্রথম শুনে আরো বেশি হাসলাম 🤣
ReplyDelete