Posts

কেতন শেখ-এর কবিতা - পুষ্পবাণ

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা পুষ্পবাণ মনের চোখে তোমার ছবি মন এঁকেছে যত্নে, খুব প্রেমময় সেথায় তুমি বসন্ত সুখ-রত্নে। দৃষ্টিতে আজ নেই তুমি তাও অন্তরে রও তুমি বন্ধ চোখের ক্ষণজুড়ে তাই গুপ্ত রতন চুমি। রত্ন বরের সেই চারুতায় নিত্য আসে ফাগুন, দশমেসে সব ধূসর দুখে মন মাখে রঙ আগুন। বসন্ত সুখ দেয় ধরা সেই একান্ত চিন্তনে, হিম-দাহ-ঠায় বোধরা লুকায় বন্ধ চোখের ক্ষণে। বেরঙ জনম অরব নিথর দৃষ্টিপাতের ধরায়, বসন্ত সুখ-রত্ন বিরাগ পর্দাটাকে সরায়। ঘুপচি ঘরের গুমোট বিষাদ জানলা দেখে হাসে, এমন অলীক দৃশ্যগুলোই বন্ধ চোখে ভাসে। হয়তো বা তাই চোখের পাতায় গ্রীষ্ম জাড়ের ভার, আষাঢ়-শ্রাবণ চোখের কোণে জমাট অহংকার। শরত ঠায়ে দৃষ্টি উদাস শ্বেত সুনীলের বনে, ক্ষণিক সুখে তৃপ্ত লোচন হেমন্ত পার্বণে। চোখের সাথেই মনটা হাসে কাঁদে ঘুমায় জাগে, হয় না তবু মিল যে তাদের ফাগুন আসার আগে। ফুল পাখিদল রোদের ছোঁয়ায় যখন রাঙায়  মন, সজাগ ধরায় মন খুঁজে পায় বন্ধ চোখের ক্ষণ। ফাগুন বরণ সেই ক্ষণে মন আনমনা বর্ণিল, সুপ্ত খেয়াল গুপ্ত আড়াল প্রকাশ্যে ঝিলমিল। সেই ক্ষণে মন দৃশ্য বোনে খুব প্রিয় এক স্বপ্...

কেতন শেখ-এর কবিতা - নিরাধার

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা নিরাধার বিচ্ছেদ সামাজিক, দুজন দু ' পথে অচেনা, যদিও দেখা হয় আপতিক। চাহনী মিলনে স্থির, আক্ষেপ ঝড়ে অরব বিলাপে পলকের গতি ধীর। দৃষ্টিতে পরাজয়, খর উত্তাপে ভস্ম প্রণয় তবু কেন সুধাময় ! অপলাপে সারাক্ষণ, বিরহী  বোধেরা সেঁকেছে  তোমার বারোমেসে বিকিরণ। সবই পুড়েছে ... তাও, তোমার চোখে তাকালে এখনও মোহিনী দৃষ্টি দাও ! নিঃশেষ অনুক্ষণে, তবুও কেন যে ঐ চোখ দেখে মন কাঁপে শিহরণে ! ঋতুভেদে ধ্রুব ছল, শিহরণে জমে  মেঘ, তবু মন-মৃত্তিকা নির্জল। তুমি কি এমনই ঊষর, জীবনের গায়ে শত রঙ মাখো ঢাকতে মনের ধূসর ? নাকি তুমি আছো সুখে, ঋতুচক্রের মুগ্ধতা মেখে ভুলে যাওয়া হাসিমুখে। জেনো, আছো যেভাবেই, জলে ফুলে রাঙা তোমার জীবনে শুধু  ...  উষ্ণতা নেই।

কেতন শেখ-এর কবিতা - বাসন্তিক

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা বাসন্তিক এলোমেলো ভাবনাগুলো খুব আপন এখন আমার ... কাল্পনিক কথোপকথনের সাথে তাদের মিতালী । ফোন করার ঠিক আগের নিশ্বাসের কম্পনে, আর কথা শেষের পর এলেবেলে খেয়ালে  তারা ফুল হয়ে ফোটে মন বাগানের কল্পতরু শাখায়। সেই ফুলের গায়ে অভিমানী রঙের খেলা, ছাঁচহীন পাপড়িজুড়ে তোমার মোহিনী দৃষ্টির হিবিজিবি স্কেচ, পল্লব হরিতে লেপা আনাড়ি ছন্দের কবিতা, আপতিক বর্ষণে সিক্ত শাখায় ফোটা ফোটা শিশিরে জমাট অব্যক্ত অনুভূতির গল্প। মন বাগানের শ্যামল ঘাসে বিকেলের ছায়ায় অবহেলায় পড়ে থাকে ভাবনা-কথনের উপন্যাস। পুরুষ্ট কলেবরে তার অলীক চিত্রাবলী  ... অনুচ্ছেদ, খণ্ড, অধ্যায়জুড়ে ঘটনাহীন চরিত্রায়ণ, গদ্যের ছলে লেখা একান্ত ব্যক্তিগত অনুরাগের উপাখ্যান ... আর অলিখিত অনুযোগের বিভাবে লেখা প্রেমপত্র। এলোমেলো সেই ভাবনাগুলোর অনুকাহিনীতে চিরবসন্তের রূপকথা ... কল্পলোকের সোনারোদ সেখানে শ্বেত-শিফন শাড়ি ভেদ করে ছুঁয়ে দেয় তোমার শ্যামবর্ণ সুডৌল বুকের ভাঁজ, কোমল কটিদেশ, মসৃণ গ্রীবা ... আলতো, পলকা, অথচ গভীর আবেগে, নিবিড়, গহন আর সান্দ্র আবেশে  ......

পাঠ প্রতিক্রিয়া - কেতন শেখ-এর অতিপ্রাকৃত গল্পগুচ্ছ

Image
  পাঠ পর্যালোচনা কেতন শেখ-এর অতিপ্রাকৃত গল্পগুচ্ছ:  ভীতি, নাকি সময়ের বিবৃতি? লেখনী - অয়ন আবদুল্লাহ অতিপ্রাকৃত কিছু ঘটনার সম্মিলনে কবি, ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার কেতন শেখ এর লেখা গল্পগ্রন্থ ‘অতিপ্রাকৃত গল্পগুচ্ছ’। এক ছুটির দিনে সকালে বইটা হাতে নিয়ে বসে পড়লাম। ২০৮ পৃষ্ঠার দারুণ এই বইটি পড়লাম দুই দিন সময় নিয়ে। এমনিতে তেরো ফর্মার একটা বই পড়তে আমার একদিনের বেশি লাগে না। তবে কেতন শেখ এর এই বইটি একটু সময় নিয়ে পড়া দরকার মনে হলো।  এর কারণ অবশ্য একটা আছে। পাঠক যদি শুধুমাত্র ভূতের বই হিসেবে এই বইটাকে বিবেচনা করেন, তাহলে সেটা বইটির প্রতি অবিচার করা হবে। বইটির প্রথম গল্পটি পড়ার পরেই আমার এই কথাটা মনে হলো। তাই দুই দিন সময় নিয়ে বইটা পড়ে শেষ করলাম। এবং শেষ করার পরেই সবার আগে যেই কথাটা মাথায় আসলো সেটা হচ্ছে- বইটার একটা পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখা দরকার। এই মনে হওয়ারও একটা কারণ আছে। কারণটা হচ্ছে এর বিষয়বস্তু। লেখক কেতন শেখ এই বইটির প্রতিটি গল্পে অতিপ্রাকৃতের মাঝে জীবনের যে গহীন বিশ্লেষণ অঙ্কিত করেছেন, সেটার জন্য কিছু কথা লেখা প্রয়োজন বলে আমি মনে করেছি। যার ফলশ্রুতিতে এই পাঠ-প্রতিক্রিয়া লেখা শুর...

কেতন শেখ-এর কবিতা - ঘনান্ধকার

Image
  কেতন শেখ-এর কবিতা ঘনান্ধকার ঘুম ভুলে যাও বন্ধু, বিস্মৃত করো নিদ্রা সুখের বিলাস ... গাত্রদাহের এই লু হাওয়ায় নাগরিক মনে নেই প্রবোধের সুবাস। সুশীলতা ছাড়ো বন্ধু, দহন আর নেই বরদাস্তের মিটারে ... ব্যাভিচার এখন মধ্যযুগীয় সুবিচার তাই হবে না টেবিল চেয়ারে। তর্ক এড়াও বন্ধু, পরিহার করো মেকি হীনচেতা বিভাজন ... পৃষ্ঠ ঠেকেছে নিরেট দেয়ালে যুক্তি কচালে হবে না সমাজ বিশোধন। অভিযোগ ভোলো বন্ধু, স্বকীয় প্রাপ্তি দেবে না কোনোই অর্জন ... প্রভেদ এখন বিষময়, তাই কৃশ স্বার্থের লিপ্সাকে করো বর্জন। মায়া ত্যাগ করো বন্ধু, নিরাপদ নেই তোমার সাজানো সংসার ... অনাচার এখন অভিশাপ, হবে সংগ্রামী কোনো বলিদানে এর প্রতিকার। স্বত্ব - কবি

কেতন শেখ-এর গল্প - তস্কর

Image
  কেতন শেখ-এর গল্প তস্কর -    এই, তোর নাম কি ? -    জামাল। -    বেয়াদবের মতো কথা কস ক্যান হারামীর পুত ! থাপ্পড় দিয়া বেয়াদবী ভুলাইয়া দিমু ... জামাল স্পষ্ট স্বরে বললো, নাম জানতে চাইছেন নাম বলছি। বেয়াদবী করি নাই। গালি দেন কেন ? কামরুল চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে জামালের গালে একটা থাপ্পড় দিলো। ছোটখাটো মানুষ হলেও কামরুলের শরীরে শক্তি আছে। রোজ সন্ধ্যায় সে এক ঘন্টা স্কোয়াশ খেলে। এরপর এক ঘন্টা জিমে কসরত করে। বাংলাদেশে ব্যবসা চালাতে হলে মানসিক শক্তির সাথে শারীরিক শক্তিরও প্রয়োজন হয়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা সাদা কথায় কিছু বুঝে না। এদেরকে মার দিয়ে কথা বুঝাতে হয়। কামরুলের থাপ্পড়ে জামালের অবশ্য তেমন কিছু হয়নি। সে আগের মতোই ভাবলেশহীন দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। এর অর্থ হচ্ছে থাপ্পড়টা খুব বেশী জোরে বসেনি। কামরুলের বিরক্তিবোধ হচ্ছে। এখন থেকে রোজ স্কোয়াশ না খেলে সেই এক ঘন্টা জিমে কিক বক্সিং করতে হবে। অফিসের কর্মচারীদের শায়েস্তা করতে হলে খালি হাতপায়ে জোর লাগবে। অফিসে তো আর স্কোয়াশ রেকেট নিয়ে বসে থাকা যাবে না। জামালের দৃষ্টিতে ভয়ভীতি না থাকলেও চেয়ারে বসে ...